ফিলিস্তিনের দশা এবার লেবাননে, বাড়িঘর ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০৩ এএম
লেবাননে ভয়াবহ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। ইসরায়েলের এক দিনের হামলায় লেবাননে ৪৯২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৫ জনই শিশু। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৫ জন। ওদিকে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহও। এমন পরিস্থিতিতে লেবাননের বাড়িঘর ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ বলেছেন, লেবাননে বেসামরিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য।
ম্যাথিউ সল্টমার্শ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল সারাদিন ও রাতে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে ও এই সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি বলেছেন, লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি পদক্ষেপের ব্যাপারে তেহরান উদাসীন থাকবে না। এক এক্স বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েলের অপরাধ বিশ্বের কাছে পরিষ্কার। এখান থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া লেবাননে গাজার মতো পরিস্থিতি হতে দেওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, লেবাননকে আরেকটি গাজায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।
সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাসুদ পেজেশকিয়ান সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, আমরা অবশ্যই ইসরায়েলের হাতে লেবাননকে আরেকটি গাজা হতে দিতে পারি না। ইসরায়েলের সর্বশেষ বিমান হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯২ জনে। তাছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৪৫ জন। নিহতদের মধ্যে ২৪ জন শিশু, ৩৯ জন নারী ও দুজন প্যারামেডিক সদস্য রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েক দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর থেকে হিজবুল্লাহ লেবাননে যত অবকাঠামো তৈরি করেছিল, তা ধ্বংসের অভিযানে নেমেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এরই মধ্যে হিজবুল্লাহর ১ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। ফলে হাজার হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
