সবাইকে ধৈর্য ধরতে বললেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ জনগণের প্রতি শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
বুধবার (৩ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসে দীপেন দেওয়ান বলেন, তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।
তিনি সবাইকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ধৈর্য ধারণ করা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মনোভাব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সকলের এবং এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক- এটাই তার প্রত্যাশা।
রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই আদর্শ ও দেশপ্রেম থেকেই তিনি রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন এবং শুরু থেকেই দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন।
দীপেন দেওয়ান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বিএনপিই তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা এবং জীবনের বাকি সময়ও তিনি দল, আদর্শ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি তার আনুগত্য অটুট থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি আরো বলেন, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়নের সুফল ভোগ এবং অঞ্চলটিকে সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন সাবেক এই মন্ত্রী।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিএনপিকেই নিজের ‘শেষ রাজনৈতিক ঠিকানা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দীপেন দেওয়ানের একান্ত সহকারী (পিএস) আল আমিন স্ট্যাটাসটি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
