সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় সাজেকের ৪২১ পর্যটক ফিরলেন খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সাজেক পর্যটন এলাকা থেকে পর্যটন বহনকারী ১০১টি ছোট-বড় যানবাহন সেনাবাহিনী ও টুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তায় তাদের খাগড়াছড়িতে আনা হয়।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, সাজেকে আটকাপড়া দেড় শতাধিক পর্যটক গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসা হলেও আজ শুক্রবার সকালে সাজেকে আটকেপড়া আরও ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে তিন হাজার ৫২৪ জন মানুষ আশ্রয়গ্রহণ করেছেন। গতকাল থেকেই জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাহাড় ধস বা টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যশস্য এবং নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য এবং অর্থ জেলা সদরসহ ১০টি উপজেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী বন্টন করা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলা-উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।
দুর্যোগকালীন কোনো জান মালের যাতে ক্ষতি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে দুর্যোগের সময় সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চলে আসতে আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
