২৪ কোটি টাকার প্রকল্প
সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
মুহাম্মদ দৌলত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট-মিরসরাই বিকল্প সড়কের ফটিকছড়ি অংশে তিনটি সেতু নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে এসব অনিয়ম করলেও রহস্যজনক কারনে দায়সারা ভুমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
২৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের আধা কিলোমিটারের মধ্যে সেতু তিনটির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও মান যাচাইকারী কর্মকর্তাকে সেতু এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে বাজার থেকে দৌড়ে এসে উপস্থিত হন। আলো বিহীন রাতের অন্ধকারে ঢালাই দেয়া ও মাটি যুক্ত স্থানীয় বালু ব্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসবের সদুত্তর দিতে পারেননি। এক ঘন্টা পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে ছিদ্দিক নামে এক ব্যক্তি পাইলিং কাজে কয়েকটি জায়গায় কিছুটা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের কাজে এক নম্বর সিলেট সেন্ট বালু ব্যবহার করার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে মাটিযুক্ত স্থানীয় বালু। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে জং ধরা নিম্নমানের রড। এসব কাজে স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিতে পাইলিং ও ঢালাইয়ের কাজ সারছেন রাতের অন্ধকারে। যার কারনে সেতুর স্থায়ীত্ব ও মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে মানহীন সেতু নির্মাণ করে কী লাভ হচ্ছে । দেখা যাবে কয়েক বছর পরে পানির স্রোতে ধসে পড়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা আবসার উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে মানসম্মত কাজের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে রাতের আঁধারে পাইলিং করা হচ্ছে। যার কারনে সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
অভিযোগ স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রকৌশলী আতিকুজ্জামান বলেন, সিলেটি বালু আসতে দেরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় বালু ব্যবহার করতে হচ্ছে। বেশীর ভাগ সময় মেশিন নষ্ট হওয়ার কারণে কাজ শেষ হতে রাত হয়ে যায়।
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সীতাকুণ্ড) উপ-সহকারী প্রকৌশলী দীপন চাকমা রাতের আঁধারে ঢালাই কাজের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “নিম্নমানের বালু ব্যবহারের তথ্য আমরা পেয়েছি। বিষয়টি জানার পর পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নারায়নহাট- মীরসরাই বিকল্প সড়কের ফটিকছড়ি অংশে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭ দশমিক ৩ সে. মি. প্রস্থের তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স সেলিম এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সড়ক ও জনপদ বিভাগ কতৃক নির্মিত এতে বাজেট ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা । ২০২৭ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
