×

চট্টগ্রাম

আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে প্রবেশপথে পাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ

Icon

বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে প্রবেশপথে পাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

পূর্বাঞ্চল রেলপথের আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্রধান প্রবেশপথের পাশে পাকা স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্টেশনে প্রবেশের সড়কে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে যাত্রী ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

শনিবার সকালে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন চত্বরে সর্বস্তরের জনগণ ও পরিবহন শ্রমিকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ক'দিন ধরে স্টেশনের ১নম্বর প্ল্যাটফর্মের ওভারব্রিজের পূর্ব পাশে ফেন্সি গেটের বাইরে স্টেশনে যাতায়াতের সড়কের পাশে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের প্রবাসী এসএম ইনামুল হক ভূইয়ার পক্ষে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই স্থানে নির্মাণকাজ করছেন। স্থানীয় সচেতনমহলের বাধার মুখে একপর্যায়ে নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পরে আবার কাজ শুরু হলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হলে জায়গাটি সংকুচিত হয়ে পড়বে। এতে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রী, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে। 

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন অটো ইজিবাইক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “আমরা সাত-আট বছর ধরে এখানে যাত্রীসেবা দিয়ে আসছি। হঠাৎ করে স্টেশনের পথে পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হবে এবং স্টেশনের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুনতে পাচ্ছি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জায়গাটি লিজ দিয়েছে। যদি তা হয়ে থাকে, তাহলে কোন জায়গা কী উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নির্মাণের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সেটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।”

আখাউড়া উপজেলা যুবদল নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, স্টেশনের প্রবেশপথের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এসেছে। তার দাবি, স্থাপনাটি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাছাড়াও আধুনিকায়ন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট না করার জন্য বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

আখাউড়া পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মন্তাজ মিয়া বলেন, “আমরা আখাউড়ায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, আখাউড়াবাসীর দাবি বিবেচনা করে স্টেশনের প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে —এমন কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেবেন না।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্যান্টিন নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলে নির্ধারিত জায়গার পরিবর্তে সড়কের পাশে কেন নির্মাণকাজ করা হচ্ছে—এ বিষয়টি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুন্নবী। তিনি বলেন, রেলওয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই ওই স্থানে ক্যান্টিন নির্মাণের জন্য দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন।

মো. নুরুন্নবী বলেন, “এলাকাবাসীর আপত্তি থাকলে তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানাতে পারেন। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে।” তিনি জানান, ১৫ ফুট বাই ২০ ফুট আয়তনের একটি ঘর নির্মাণের জন্য জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বরাদ্দকৃত জায়গাটি ঠিক কোথায়, এর ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং প্রস্তাবিত স্থাপনা নির্মাণে স্টেশনের প্রবেশপথ ও জনসাধারণের চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্টেশনে প্রবেশের সড়ক, যাত্রী ও যানবাহন চলাচলের জায়গা এবং বরাদ্দকৃত স্থানের অবস্থান যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে রেলওয়ের সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আখাউড়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।

জনগুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত এবং বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিও দূর হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট-জবরদখল নিয়ে যা বলল টিআইবি

হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট-জবরদখল নিয়ে যা বলল টিআইবি

গর্ভবতী নারীকে পুড়িয়ে হত্যা, অতঃপর

গর্ভবতী নারীকে পুড়িয়ে হত্যা, অতঃপর

সরকারি চাকরিজীবীদের ২ দিনের ছুটি ঘোষণা

সরকারি চাকরিজীবীদের ২ দিনের ছুটি ঘোষণা

ঢাকায় চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র, ৮ মাসে ৭২৩ মামলা

ঢাকায় চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র, ৮ মাসে ৭২৩ মামলা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App