গাজীপুরে ঘরমুখো মানুষের ভিড়: মহাসড়কে তীব্র যানজট
এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
ঈদযাত্রায় গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্বজন, পরিজন নিয়ে দলে দলে বাড়ি ফিরছেন ছুটিতে যাওয়া কর্মজীবী মানুষেরা। মহাসড়কে তাদের উপস্থিতি ও যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকায় কয়েকটি পয়েন্টে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।
গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাতভর বৃষ্টি, কর্দমাক্ত রাস্তা এবং অতিরিক্ত ভাড়ার আদায়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। বুধবার শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ার পর থেকেই এই চাপের সৃষ্টি হয়, যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও চলছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র জটলা তৈরি হয়েছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, এলোমেলো পার্কিং, উল্টো পথে অটোরিকশা চলাচল এবং যাত্রী ওঠা-নামার কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা টাঙ্গাইল ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, গাড়ির দীর্ঘ লাইন। রাতভর বৃষ্টি হওয়ার কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানিতে একাকার। রাস্তার উপর এলোমেলো পার্কিং এবং মানুষের ঢলের কারণে যান চলাচলের জন্য রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না।
গাড়ির অতিরিক্ত চাপ ও মানুষের ভিড়ের কারণে কবিরপুর থেকে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর ও আশেপাশের এলাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে আছেন যাত্রীরা।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস এবং চান্দনা চৌরাস্তায় যানবাহনের গতি মন্থর দেখা গেছে। চান্দনা চৌরাস্তায় সড়কের পাশে পার্কিং থাকায় লেন সংকীর্ণ হয়েছে। এছাড়া যাত্রী ওঠানামার কারণে এই পয়েন্ট অতিক্রম করতে যানবাহনগুলো বেশি সময় নিচ্ছে।
ফলে বাসন সড়ক থেকে তেলিপাড়া পর্যন্ত এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়ে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন, অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
চন্দ্রা এলাকায় সিরাজগঞ্জগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা মাসুদ রানা বলছেন, “বুধবার বিকালে কারখানা ছুটির পর বাড়ি যাওয়ার জন্য স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গাড়িতে উঠতে পারিনি। এরমধ্যে আবার শিলাবৃষ্টি শুরু হলে বাসায় ফিরে যাই।
“এখন বৃস্পতিবার ভোর থেকে আবার গাড়ির অপেক্ষা করলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও বাসে উঠতে পারিনি। এখানে যাত্রীর চেয়ে গাড়ি কম। যানজটের ভোগান্তির পাশাপাশি আমাদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো।”
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, স্টেশন রোড ও গাজীপুরা এলাকায়ও ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড চাপ দেখা গেছে। যানবাহনের সংকটের কারণে পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও অটোরিকশা দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন যাত্রীরা।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক সওগাতুল আলম বলেন, বুধবার দুপুরের পর তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে শ্রমিকরা একযোগে গাজীপুর ছাড়ছেন। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের ভিড় ও জটলা দেখা গেছে।
বিশেষ করে টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে চন্দ্রা, ওয়ালটন কারখানা থেকে কালিয়াকৈরের বাইপাস সড়ক পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাফিক পুলিশের এ খর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আরও হাজার খানেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হবে। তখন যারজট আরও বাড়বে। যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য সংস্থার লোকজন কাজ করছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) এডিসি অমৃত সূত্রধর বলেছেন, বুধবার সন্ধ্যার পর বৃষ্টি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে আবার তারা ঈদযাত্রা শুরু করেছেন। এতে ভোরে আবার গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে।
