প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণা, ডিবির জালে ভুয়া আইনজীবী
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়দানকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৬) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ। মামুন একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মানবেন্দ্র বালো উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার প্রতারক মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উলাইল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি ঢাকার সাভারের জালেশ্বর এলাকার রাঢ়ীবাড়ী বি-ব্লক ২/৯ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন মামুন। এছাড়া তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ১৮ মে তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ অবগত হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১১টার দিকে সাভারের জালেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, সাংবাদিকের ভুয়া পরিচয়পত্র, ‘প্রেস’ লেখা একটি জিপ গাড়ি, ‘আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ সম্বলিত লিফলেট এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, প্রতারণার কাজে মামুন বিশেষ ধরনের একটি মোবাইল ব্যবহার করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
