‘শরিয়াহ বোর্ডের স্বাধীনতা-সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুরক্ষার আশ্বাস দেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও শরিয়াহ পরিপালন জোরদার করতে শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, শরিয়াহ বোর্ড যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় গভর্নর স্বীকার করে জানান, অতীতে যথাযথ তদারকির অভাবে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের মতো অনিয়ম ঘটেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকিং মূলত সম্পদনির্ভর কাঠামোয় পরিচালিত হওয়ায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শরিয়াহ বোর্ডগুলোকে আরও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকে এ খাত তদারকির জন্য পৃথক ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ, বড় বিনিয়োগে শরিয়াহ কমিটির একাধিক সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং বোর্ডকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রাখা।
এছাড়া ব্যাংক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের জন্য ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান নিশ্চিত করা, নিয়মিত বাহ্যিক শরিয়াহ অডিট চালু এবং একটি স্বচ্ছ কমপ্লায়েন্স মূল্যায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
আস্থা ফিরিয়ে আনতে অর্থপাচার ও বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান এবং সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর জন্য সহজ শর্তে তারল্য সহায়তার সুপারিশ করেন বক্তারা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণা কেন্দ্র ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উঠে আসে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে গভর্নর ইসলামী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
