শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা-মামলার প্রতিবাদে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
তানভীর ইবনে মোবারক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মামলা দায়েরের প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডেইরি গেইট (প্রধান ফটক) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সামনে সংহতি সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, আমরা দেখেছি আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে, শনিবার (১৩ জুলাই) শাহবাগে মামলা করা হয়েছে। তাই আমরা হুশিয়ার করে দিতে চাই ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি স্বৈরাচার বাহিনী শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালিয়েছে, হামলা-মামলা করেছে কিন্তু রুখতে পারে নাই, ১৯৬৯ এ একই ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা যখন কোনো যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যায় নি। তাই বলে দিতে চাই কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাব না। কোনো ধরণের পায়তারা চালানোর চেষ্টা চালালে এই আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে উঠবে।
প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের কাছে প্রত্যাশা করি তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে, সমতা বিধান করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে, কারণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই বাংলাদেশকে পেয়েছি। গত দশ দিন থেকে শিক্ষার্থীরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, গায়ের ঘাম পানি করে যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তা মূলত রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্যই। তাই আমি শিক্ষক হিসেবে তাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে সংহতি জানাচ্ছি।
আরো পড়ুন: কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজশাহীতে গণপদযাত্রা
সমাবেশে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, আমি আজকের এই সংহতি সমাবেশের মাধ্যমে সারাদেশে আন্দোলনকারী সব শিক্ষার্থীদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনারা দীর্ঘদিন থেকে একনিষ্ঠভাবে যৌক্তিক দাবিতে কোটা বাতিল নয় কোটা সংস্কারের জন্য যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সেটি আসলেই প্রশংসার দাবিদার। আপনাদের দেখে আমার মনে হচ্ছে আপনারা সেই ৫২-র ভাষা আন্দোলনকারী শহীদদের উত্তরসুরী। একটা দেশে কোটা কখন প্রয়োজন হয় যখন এক শ্রেণির লোক সমাজে পিছিয়ে থাকে, মেইন্সট্রিমে তারা কিছু বলতে পারে না, তখন তাদেরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কোটা প্রয়োজন হয়। কিন্তু কোটা কখনো বৈষম্য তৈরি করতে পারে না। কোটার মাধ্যমে এই দেশকে মেধাশুন্য করে ফেলা হচ্ছে, এই আন্দোলন শুধু চাকরির আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন দেশকে রক্ষা করার আন্দোলন। কারণ মেধাবীদের ছাড়া একটা দেশ কখনো উন্নত হতে পারে না। মেধাবীরা ছাড়া আপনি কোনো ভাবেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারবেন না। তাই আমি আপনাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বঞ্চিত করে ৬০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার যে খবর আমরা মিডিয়ায় দেখেছি, সেই গোষ্ঠীকে সুবিধা দেয়ার একটা ষড়যন্ত্র এখানে রয়েছে। সুতরাং শিক্ষার্থীরা অনগ্রসর যারা তাদের অধিকার আদায়ে কোটা সংস্কারের যে দাবি করছেন তা ন্যায্য।
তিনি আরো বলেন, আদালতের সবচেয়ে বড় আইন হচ্ছে কাণ্ডজ্ঞান, এর উপরে কোন জ্ঞান নেই। ফলে আদালত ভালো করেই বুঝে তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কি করা হচ্ছে। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি, অনতিবিলম্বে এই কোটা সংস্কার করবে। এই কোটা সংস্কার করতে গিয়ে যদি কোনো বৈষম্য হয়, কোনো পক্ষ যদি ভুক্তভোগী হয় তাহলে আদালত সেই জায়গায় তাদের অবজারভেশন দেয়। যেহেতু আইন বিভাগ আর বিচার বিভাগ আলাদা সুতরাং আইন বিভাগের দায়িত্ব কেনো বিচার বিভাগে দেয়া হচ্ছে? এই সামান্য বিষয়টি বুঝার জন্য তো রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই। সুতরাং আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সমর্থন করি এই কারণে যে একটা মেধাভিত্তিক, দূর্নীতিমুক্ত ও বৈষমবিরোধী বাংলাদেশ তৈরির জন্য সুস্পষ্ট নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকা উচিত। মূল্যবোধের অবক্ষয়ে আমরা সবাই শেষ হয়ে যাচ্ছি।
