×

আমদানি-রপ্তানি

আমদানি বাড়লেও বাজারে খেজুরের বাড়তি দাম

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ এএম

আমদানি বাড়লেও বাজারে খেজুরের বাড়তি দাম

ছবি : সংগৃহীত

রোজার বাজারে খেজুরের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকায় দামের সামান্য পরিবর্তনও সরাসরি প্রভাব ফেলে ভোক্তার ব্যয়ে। চলতি মৌসুমে খেজুরের আমদানি ১১ শতাংশ বেড়েছে এবং সরকার আমদানি শুল্কও কমিয়েছে। বন্দর দিয়ে নিয়মিত খালাসও হচ্ছে পণ্য। তবু খুচরা বাজারে অন্তত পাঁচ ধরনের খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে জাহিদি খেজুর, যা তুলনামূলক কম দামের কারণে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের কাছে জনপ্রিয়। অনেকেই এটিকে গরিবের খেজুর বলে থাকেন। দেশে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় এই জাতের খেজুর। রোজা শুরুর আগেই জাহিদির দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি দাব্বাস, নাকাল, মাশরুখ ও আম্বর, এই চার জাতের খেজুরের দামও ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

জাহিদি খেজুর মূলত ইরাক থেকে দুবাই হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেখান থেকে পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়। কার্টন ও বস্তা, দুইভাবে বিক্রি হয় এ খেজুর। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে কার্টনভিত্তিক জাহিদি প্রতি কেজি ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, খুচরায় দাম ছিল ৩৫০ টাকা। গত বছর রোজার শুরুতে খুচরায় এর দাম ছিল ২০০ টাকা। বস্তাভিত্তিক জাহিদি পাইকারিতে ১৯০ টাকা এবং খুচরায় ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বছর এ দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি জাহাজে থাকা প্রায় ৪ হাজার টন খেজুর সাগরে ডুবে যায়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল জাহিদি। ফলে বড় একটি চালান বাজারে আসেনি। পাশাপাশি নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা নিয়ে কর্মবিরতির কারণে কয়েক দিন পণ্য খালাস বন্ধ ছিল, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।

আরো পড়ুন : রোজার শুরুতেই ফলের বাজারে অস্থিরতা

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাময়িক সরবরাহ ঘাটতির কারণেই জাহিদির দাম বেড়েছে। বন্দর স্বাভাবিক হয়েছে, নতুন চালান আসছে, এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে ৪৯ হাজার ৮০৭ টন, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৪৪ হাজার ৭১৬ টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৫ হাজার ৯১ টন বা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

রমজানকে সামনে রেখে সরকার গত ২৪ ডিসেম্বর খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, রোজায় মোট চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার টন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান আমদানির ধারা অব্যাহত থাকলে সরবরাহ শিগগিরই চাহিদা ছাড়িয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি, এই তিন দিনেই খালাস হয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ টন খেজুর। চলতি মৌসুমে আমদানি করা খেজুরের প্রায় ৩০ শতাংশই জাহিদি, যার পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার টন।

আমদানিকারকেরা বলছেন, বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করা জাহিদি খেজুর এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসবে। এতে দাম কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পাইকারি পর্যায়ে সামান্য মূল্যবৃদ্ধি খুচরায় এসে আরো বেড়ে যায়। বাজারে তদারকির ঘাটতিও মূল্যবৃদ্ধির একটি কারণ।

দামের হিসাবে দেখা যায়, নাকাল প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা (গত বছর ২৮০), মাশরুখ ৪৫০ টাকা (গত বছর ৪০০), আম্বর ৮০০ টাকা (গত বছর ৬০০) এবং দাব্বাস ৫০০ টাকা (গত বছর ৪০০)। তবে আজোয়া, মেডজুল ও মরিয়ম জাতের খেজুরের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে খেজুর বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সংস্থাটি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে খেজুর বিক্রি করছে, একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ আধা কেজি কিনতে পারছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষের মতে, খেজুর এখন আর কেবল রোজাভিত্তিক পণ্য নয়, সারা বছরই এর চাহিদা থাকে। তবে রোজায় চাহিদা দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়। সরবরাহে সামান্য বিলম্বও তখন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চট্টগ্রামে পুলিশের এস ড্রাইভ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭

চট্টগ্রামে পুলিশের এস ড্রাইভ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭

ঈদে ১০ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ঈদে ১০ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু

অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু

সাবেক এমপি ফজলুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত

সাবেক এমপি ফজলুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App