মুনাফালোভীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২০, ০৩:১৬ পিএম
করোনা সংক্রমণের এই দুর্যোগে রোগীদের চিকিৎসা দেবার নামে বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো যে ধরনের অমানবিক আচরণ করছে এবং অস্বাভাবিক বিল করে জনগণের পকেট কাটার মহাউৎসব চালাচ্ছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।
শনিবার (২৭ জুন) সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিৃবতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, করোনা সংকটে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মুনাফালোভী মালিকেরা শুরুতে নিষ্ক্রিয় থেকে সরকারের সাথে দরকষাকষি করে ফায়দা তুলতে চেয়েছে। এদের অন্যতম আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, যার মালিক একজন ভোট ডাকাতির সংসদের এমপি ও বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। ঐ হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য সরকারের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়ে ১ মাসের পরিচালনা ব্যয় বাবদ ১৭ কোটি টাকা দাবি করে। যেখানে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ২০০ শয্যার একটি হাসপাতালে ১ মাসে পরিচালনা ব্যয় কোন মতেই ৩ কোটি টাকার বেশি হতে পারে না। গত ৩১ মে’র পরে সরকারের সাথে দরকষাকষিতে বণিবনা না হওয়ায় চুক্তি থেকে সরে যায়। সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে করোনা চিকিৎসার নামে এই হাসপাতালে রোগীদের গলা কাটা হচ্ছে। একজন রোগী অভিযোগ করেছে তাঁকে ১ ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া বাবদ বিল করেছে ৮৬ হাজার টাকা। কেবিনে কোন নার্স, আয়া যায়নি, নিজের রুম নিজেই পরিষ্কার করেছে তবুও সার্ভিস চার্জ বাবদ বিল করেছে ২৪ হাজার টাকা।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পুড়ে মারা গেল। মালিবাগে প্রশান্তি নামরে এক ক্লিনিকে রোগীকে আইসিইউ-তে না রেখেই আইসিইউ’র বিলসহ ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিল করেছে এবং টাকার জন্য রোগীর লাশ বেডের সাথে বেঁধে রাখার ছবিও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এভাবে একের পর এক ঘটনা ঘটে চললেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে ঐ সব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জনগণের পকেট কাটার এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা আজও পর্যন্ত নেয়া হয়নি।
বিবৃতিতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের এহেন ডাকাতি ও গণবিরোধী অমানবিক আচরণ বন্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার জন্য সকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে করোনা দুর্যোগে সকল বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক অগ্র্রিহণ করে বিনামূল্যে সকল নাগরিকের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
