ইরানে স্থল অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের চাপ প্রয়োগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তেহরানের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনায় বসার আগে ইরানে একটি ‘স্বল্পমেয়াদী ও শক্তিশালী’ স্থল অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ইসরায়েল।
বুধবার (১ এপ্রিল) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মাআরিভ-এর এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারানোর আগেই ওয়াশিংটন আলোচনার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি সামরিক অভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
খবর দিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মিশ্র বক্তব্য দ্বিধা-দ্বন্দ্বের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। তাদের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে: সংঘাত আরও বাড়ানো অথবা সমঝোতায় যাওয়া।
প্রথম বিকল্প হিসেবে ইসরায়েল চায় ইরানকে কোণঠাসা করতে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল রফতানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা জোরদার করা হোক। ট্রাম্প ইরানকে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে বড় ধরনের হামলার হুমকি রয়েছে।
দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো একটি চুক্তি করা, যার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা হবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার উপদেষ্টারা প্রথম পথটিকেই বেছে নিতে আগ্রহী। তাদের মতে, এই মুহূর্তে কোনও চুক্তি হওয়া মানে ইরানের বিজয় এবং বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে টিকে থাকতে সহায়তা করা।
নেতানিয়াহু সরকার মনে করে, যুদ্ধ চলাকালীন গণবিক্ষোভের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব। তাই ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে এমনভাবে পঙ্গু করে দেওয়া যেন তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।
ইতোমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ট্রাম্পের অনুরোধে তেল ও গ্যাস খাতে হামলা আপাতত বন্ধ রাখলেও ইসরায়েল ইরানের কৌশলগত ইস্পাত শিল্পে আক্রমণ তীব্র করেছে। বিশেষ করে খুজেস্তান ও ইস্পাহানের দুটি বড় ইস্পাত কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জনমতের ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি যদি কেবল জনমত জরিপ দেখে চলেন, তবে আপনি নেতা নন, বরং একজন অনুসারী।
এদিকে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও এই যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন ইসরায়েলি কূটনীতিকের দাবি, এই দেশগুলো ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে যেন তারা মাঝপথে যুদ্ধ থামিয়ে না দেয়। তাদের ভয়, অসমাপ্ত যুদ্ধে ইরান আরও বেশি ‘উগ্র ও প্রতিশোধপরায়ণ’ হয়ে উঠতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিপরীতে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে, যা বিশ্ববাজার ও বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
