যুদ্ধের মাঝে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফর’, ভিত্তিহীন দাবি করল আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি চরমে থাকা অবস্থায় গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার (১৩ মে) রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই সফর ইসরায়েল ও ইউএই-এর মধ্যে সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য এনেছে।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের মাধ্যমে ইসরায়েল ও আমিরাতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি হয়েছে।
তবে ইউএই-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরের বিষয়টি অস্বীকার করে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট জানাচ্ছে যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর কিংবা দেশে কোনো ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণের খবরগুলো সঠিক নয়।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আমিরাত পুনরুল্লেখ করছে যে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং তা সুপরিচিত ও দাপ্তরিকভাবে ঘোষিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর কাঠামোর আওতায় পরিচালিত। এর বাইরে অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের অঘোষিত সফর বা গোপন চুক্তির যেকোনো দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সাক্ষাৎ করেছিলেন। মূলত চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। নেতানিয়াহুর দপ্তরের করা পোস্টের পর রয়টার্স এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নেতানিয়াহুর দপ্তরের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি প্রকাশ করেন যে, ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালনার জন্য ইসরায়েল তাদের ‘আয়রন ডোম’ ইন্টারসেপশন সিস্টেমের ব্যাটারি পাঠিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দিকেই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
