৩৫ মণের ‘নেইমার’ ঘুরে বেড়ায় দড়ি ছাড়াই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের অভয়নগর উপজেলার একটি পারিবারিক খামারে লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়কে ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে। প্রায় ৩৫ মণ (১৩০০ কেজি) ওজনের এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’।
মাথার সামনের চুলের কাটিং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় শখ করে খামারি দেবু পাড়ে এর এই নাম দিয়েছেন। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এত বিশাল দেহের অধিকারী হলেও ষাঁড়টি এতটাই শান্ত যে, কোনো দড়ি ছাড়াই সে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়।
উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ভাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রামের দেবু পাড়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে এই ফ্লেকভি জাতের ষাঁড়টিকে বড় করে তুলেছেন। তিনি জানান, ‘নেইমার’-এর পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় দেড় হাজার টাকা। তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে খৈল, ভুসি, খড়, ভুট্টার গুঁড়ো, সবুজ ঘাস ও খুদের ভাত। দেবুর খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে আরও পাঁচটি গরু থাকলেও সবার আকর্ষণ এখন এই শান্ত স্বভাবের ‘নেইমার’-এর দিকেই।
পারিবারিক এই খামারে দেবুর পাশাপাশি তার মা ইতি পাড়েও দিন-রাত পরিশ্রম করে ‘নেইমার’-এর দেখভাল করেন। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "ওকে আমরা পরিবারের একজন সদস্যের মতোই ভালোবেসে বড় করেছি। বিক্রি করে দিলে ভীষণ কষ্ট হবে, কিন্তু সংসারের তাগিদেই ওকে বিদায় দিতে হবে।"
এদিকে ‘নেইমার’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ দামের খোঁজ নিচ্ছেন। স্থানীয় খামারি সুদীপ মণ্ডল ও কানু বিশ্বাস জানান, ষাঁড়টির গঠন ও সৌন্দর্য দুটোই চমৎকার। এবারের কোরবানির হাটে এটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে এবং ভালো দামে বিক্রি হবে বলে তাদের বিশ্বাস। খামারি দেবু পাড়ে জানান, উপযুক্ত দামের অপেক্ষায় এখনও তিনি এটি বিক্রি করেননি। তবে আগ্রহীরা সরাসরি খামারে এসে ষাঁড়টি দেখে দামদর করতে পারবেন।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, এবারের ঈদে জেলার আটটি উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। অনেক খামারিই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে বড় আকারের পশু তৈরি করেছেন। তবে হাটে ওঠার আগেই অভয়নগরের এই ‘নেইমার’ জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
