বারিধারায় গাড়ির চাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু, ঘাতক কিশোর সংশোধনাগারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম তাকে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের চালকের আসনের দরজা খুলে কিশোর আজান আলী শরীফ বের হন। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, কিশোরের পক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন জামিন আবেদন করেন। আবেদনে দাবি করা হয়, আজান আলী শরীফ গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন না; তিনি পাশের আসনে বসেছিলেন। এতে আরও বলা হয়, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বারবার হর্ন বাজানোর পরও সময়মতো সরে যেতে পারেননি। এ কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করা হয়।
জামিন আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় মেহেদী হাসানকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তদন্তের ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
