অস্ত্র হাতে ইশরাক
আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তদন্ত করছে পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইন লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হলো।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চুরি করা একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন ডিবি প্রধান।
এর আগে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে চিৎকার করে ‘এই ধর ধর ধর’ বলতে শোনা যায়। এ সময় তাঁর হাতে একটি অস্ত্রও দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ‘ইশরাক ভাই সমালোচনাকে সাধুবাদ জানাবেন, নিজেকে শুধরে নিবেন’
ইশরাক হোসেন নিজেও তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করেন। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে প্রকাশ করা ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। পরে অবশ্য ভিডিওটি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, অস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি কাউকে ভয় দেখাননি এবং গুলিও করেননি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ইশরাক। তাঁর দাবি, অভিযানের সময় হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের সংসদীয় এলাকার মাদক পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ও ঘণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তাঁর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই বাধ্য হয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
