×

জাতীয়

সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:২৩ পিএম

সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়
সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়

সোমবার কৃষক দলের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল। ছবি: ভোরের কাগজ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সরকার হত্যা করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তখন তাকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলতে বিভিন্ন আইন-কানুন দেখাচ্ছে সরকার। কারণ, তারা আমাদের নেত্রীকে ভয় পায়। আজ সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির একদফা দাবিতে কৃষক দলের সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টার পর থেকেই সমাবেশস্থলে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। ঢাকার বিভিন্ন ইউনিট ও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মিছিল ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নানান স্লোগান সমাবেশস্থলে জড়ো হন তারা। বিএনপি মহাসচিব যখন মঞ্চে আসেন তখন বিজয়নগর মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় সমাবেশ। সমাবেশ চলাকালে নেতাকমীরা 'মুক্তি, মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘কে বলেছে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়' এমন স্লোগান দিতে থাকেন। সমাবেশের জন্য নয়াপল্টন এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন সতর্ক অবস্থানে। খালেদা জিয়াকে কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, মিথ্যা প্রতারণা করে জনগণকে ভুল বুঝিয়ে, আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে বিনা চিকিৎসায় সরকার হত্যা করতে চায়। তারা যে কথাগুলো বলছেন, সেটার উদ্দেশ্য একটাই তারা আসলে কাপুরুষ-ভীতু। তারা জানে খালেদা জিয়া যদি সুস্থ হয়ে যান, আবার জনগণের মধ্যে ফিরে আসেন, তার ডাকে কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। তখন তাদের ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি সবসময় বলি বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন খালেদা জিয়া। এই কথা বললে তাদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) গায়ের মধ্যে আগুন জ্বলে। কারণ তারা তো মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তারা তো সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাতা খেয়েছিল। বাস্তব কথা বলছি। অনেকের কষ্ট হতে পারে, কিন্তু কথাটা সত্য। ফখরুল অভিযোগ করেন, এই লুটেরা, ব্যাংকচোর, বর্গী সরকার দেশের মানুষের সবকিছু লুট করে নিযে যাচ্ছে। বিদেশে বাড়ি বানাচ্ছে। এই হলো মেগাউন্নয়ন মেগাপ্রজেক্টের। আওয়ালীগের মধ্যসত্ব ভোগীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের মুনাফা নিয়ে যাচ্ছে। দেশে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছে এররমধ্য দিযে শুধু তারাই মুনাফা পায়। এ সময় টার্মিনাল উড়ালসেতু দিয়ে স্বর্গে যাবে কিনা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলে নেতাকর্মীরা হাত উচিঁয়ে না না বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়া দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দুটি শিশু সন্তানসহ পাকিস্তান বাহিনী আটক রাখে। আমি বলবো তিনি ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। অবশ্য এ কথা বললে আওয়ামী লীগের গা জ্বলবে। তারাতো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, পাকিস্তানের ভাতা খেয়েছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেত্রী। তিনি ক্ষমতায় এসেই কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা মওকুফ করেছেন। ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছেন। আর এখন ঋণের কারণে কৃষকের কোমড়ে দরি ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরা লুটেরা সরকার। এরা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি করছেন। অথচ, আজকে কৃষক নায্যা মুল্য পাচ্ছে না। সারের দাম তিনগুণ বেড়েছে। যার ফলে কৃষকদের পক্ষে বেঁচে থাকাই কষ্ট হয়ে গেছে। আজকে পিটার হাসের বিরুদ্ধে সরকার লেগেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে বিষাদগার করা হচ্ছে। অথচ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশকে আজ কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এ সরকার? এ মাসে সবচেয়ে রেমিট্যান্স কম এসেছে। কারণ, এদেশের প্রতি মানুষের কোন আস্থা নেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সবজায়গা সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট করে টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি ব্যবস্থা কায়েম করছে যে, সব টাকা আজ ওদের পকেটে। আজ কৃষক ভাইদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার কৃষকদের যে ধান কিনে সেখানেও কমিশন। বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার ওপরও ওরা বসায়। সত্যিকারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছে না। আওয়ামী ব্যবসায়ীরা আজ ব্যবসা করছে। সাধারণ মানুষ চাকরি পায় না। বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে ঘুস দিয়ে চাকরি পেতে হয়। তিনি আরও বলেন, আজকে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সকল কিছু ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সবজায়গায় দলীয়করণ। মেগা দূর্নীতি করার জন্য মেগা উন্নয়নের নামে উরাল সেতু, টার্মিনাল বানাচ্ছেন। জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা ছাত্রাবস্থায় গান গাইতাম- ২০ টাকায় তেল খেয়ে স্বর্গে যাবোগো..। আজকেও কৃষকরা গান গাচ্ছেন, ফ্লাইওভার, টার্মিনাল দিয়ে স্বর্গে যাবোগো। বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, এ সরকার এখনও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। দেশকে এরা জাহান্নামের দিকে নিয়ে গেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানুষ শান্তিতে থাকে, দুমুঠো ভাত খেতে পারে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়। আবার বলছেন নির্বাচন হবেই। খুবই মজা পেয়েছে! ভেবেছেন এবারও বিএনপিকে দূরে রেখে আবারও একতরফা নির্বাচন করবে। আজকে এর প্রতিরোধ গড়তে শুধু বিএনপি নয় দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং জনতা এক হয়েছে। এদেশে আর কোন একতরফা নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। ফখরুল বলেন, সরকার গায়ের জোরে বলছে নির্বাচন হবেই, কারণ সংবিধানকে নিজেদের মতো কাটাকুটি করে নিয়ে একতরফা নির্বাচন করে মজা পেয়ে গেছে। এ কারণেই বিএনপিকে দূরে রেখে নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। তবে এবার আর সেই সুযোগ দেয়া হবে না। সরকারের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এখনো সময় আছে পদত্যাগ করে সংকট দুর করতে ব্যবস্থা নেন, নইলে দেশের মানুষ জানে কিভাবে আপনাদের উৎখাত করতে হয়। এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, হাসিনার হুকুমে দেশ চলছে। অথচ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তিনি বিবেচনা করেনি। একজন মানুষ মরণ যন্ত্রণায় ভুগছে, অথচ তার কাছে জীবনের কোনো মূল্য নেই, কি নিষ্ঠুর, পাষাণ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীকে আমার হিটলারের সহযোগী মনে হয়। অত্যন্ত নিষ্ঠুর এই ব্যক্তি। ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আজকে কৃষক সমাবেশের পরে প্রধানমন্ত্রী যদি হুশে থাকেন, তাহলে খালেদা জিয়াকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে, তা না হলে যখনই ডাক পড়বে কাস্তে আর লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে হবে। থানা, জেলা, ইউনিয়ন ঘেরাও করা হবে। কৃষকদের তৈরি থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বিএনপির এই নেতা বলেন, এই অক্টোবরেই আপনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। এটাই হবে শেষ খেলা। কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দল নেতা নাসরিন হায়দার, জামাল উদ্দিন খান মিলন প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App