×

জাতীয়

বইমেলা ছাড়াই শুরু ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

বইমেলা ছাড়াই শুরু ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

শুরু হয়েছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের মাস ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ভাষা আন্দোলনের মাসের শুরুটা অন্যরকম। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন শুরু হচ্ছে না বহুল প্রতীক্ষিত ‘অমর একুশে বইমেলা’। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সাধারণত ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বইমেলার আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আর বইমেলার প্রাণচাঞ্চল্য—এই দুইয়ের সম্মিলিত আবহেই শুরু হয় ভাষার মাস। এবার সেই চিরচেনা দৃশ্যের অনুপস্থিতি স্পষ্ট।

বাঙালির কাছে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি মাস নয়, এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ এবং ভাষাভিত্তিক জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন ভাষা শহীদরা। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও মাতৃভাষার মর্যাদা ও ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা দেন—‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য তিনি কার্জন হলেও পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানান এবং পরে জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

এরও আগে, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক গড়ে তোলেন তমদ্দুন মজলিস। ভাষা প্রশ্নে সভা-সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি আন্দোলনকে সংগঠিত করে তোলে। একই সঙ্গে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, যা আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত করে।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস, গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ফজলুল হক হলে গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। সেদিনই ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মঘট চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ টানা ধর্মঘট পালিত হয়।

১৯৪৮ সালের শেষ দিকে ভাষা আন্দোলনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় তিনি বাংলা হরফ বাতিল করে আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ সভা করেন এবং বাংলা হরফ রক্ষার আন্দোলন জোরদার করেন।

ক্রমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে পূর্ব বাংলাজুড়ে আন্দোলন দানা বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিকসহ আরো অনেকে শহীদ হন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার অধিকার বাঙালিকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন পথের দিশা দেয়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যায় স্বাধিকার আন্দোলন, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

মোদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়

রাহুল গান্ধী মোদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি

‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’ পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App