শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত চেয়ে আইসিটিকে চিঠি
মাহফুজ খান
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) চিঠি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক খ্যাতনামা আইন প্রতিষ্ঠান কিংসলে নেপলি ।
সোমবার (৩০ মার্চ) শেখ হাসিনার পক্ষে পাঠানো ওই চিঠিতে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় বাতিলের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ট্রাইব্যুনাল কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা আগামী ১৪ দিনের মধ্যে (১৩ এপ্রিল) জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, চিঠির একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটি ও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই চিঠির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বৈধতা স্বীকার করা হচ্ছে না; বরং এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রয়েছে অভিযুক্তের।
চিঠিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার বিচার এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলটিকে নিষিদ্ধ করা, দলীয় আইনজীবীদের গ্রেপ্তার ও হামলার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য প্রণীত। কিন্তু সাম্প্রতিক সংশোধনের মাধ্যমে এর আওতা বাড়ানো হয়েছে, যা আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে বলে দাবি করা হয়। জুলাইয়ের ঘটনাগুলো সাধারণ ফৌজদারি আদালতে বিচারযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিচারকদের অপসারণ ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও অস্বচ্ছ বলে দাবি করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়, যা ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে দাবি।
চিঠিতে বলা হয়, যথাযথ নোটিশ ছাড়াই চার্জ গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও ছিল না।
আইনজীবীদের দাবি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হতে পারে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন এবং ‘সামারি এক্সিকিউশন’-এর শামিল বলে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে কয়েকটি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে তা হলো:-
• শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় ও সাজা বাতিল
• মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা
• আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন
• নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা
• আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের নিরাপত্তা দেওয়া
• ত্রুটিগুলো স্বীকার করে সংশোধন করা
চিঠিতে বাংলাদেশ সরকার ও আইসিটিকে ১৪ দিনের মধ্যে (১৩ এপ্রিল) তাদের অবস্থান জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
