সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) পাঠানো ওই নথিতে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে দুই বাংলাদেশির কারও সাজা সম্পর্কে কনস্যুলেটকে অবহিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এমনকি কনস্যুলেটের কাছে থাকা বন্দিদের তালিকাতেও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ ছিল না।
জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার। পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তাঁরা সৌদি আরবে আটক ছিলেন।
কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এর পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁরা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
আরও পড়ুন: ‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে’
গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের হাতে আসা বন্দিদের তালিকায় ৯৭ জনের অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ছিল। তবে নজরুল ও সুইটি আক্তারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিও তালিকায় ছিল না।
নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের কোনো নজির কনস্যুলেটের জানা নেই।
নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। এ ছাড়া সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলার উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোতে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছিল ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নজরুল ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় কিংবা তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি।
এ পরিস্থিতিতে রায়ের অনুলিপি ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে কনস্যুলেট। রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
