আইজিপি
‘সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ‘ক্রসফায়ারের’ অনুমতি দিলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারের ওয়াটার ওয়ার্কার্স রোডে শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয় সরকার যদি এলাও করে আমরা সেটাই করব।
তিনি বলেন, পুলিশ লাঠিপেটা করলে বলা হয় পুলিশ ফ্যাসিস্ট, আবার পুলিশ নীরব থাকলে বলা হয়, দুর্বল পুলিশ। এ অবস্থায় পুলিশকে কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম করতে হবে।
‘সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী চলতে হবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। গুজব ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন আইজিপি।
আরও পড়ুন: ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু
আইজিপি বলেন, “আপনার সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নাই। যত বাহিনীই বলি, সেনাবাহিনী বলি, তারা দেশ রক্ষা করবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, ইন্টারনাল শৃঙ্খলা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন— সবকিছুই আপনার-আমার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। আপনারা পুলিশকেও ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা কইরেন না, নিজেরাও ব্ল্যাকমেইল হইয়েন না।”
দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, “আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করি। সব দল-মতের ইলেকশন এজেন্ডা থাকে শান্তি।
“শেষে গিয়া দেখা যায়, শালিস মানি; কিন্তু তালগাছটা আমার, আমাকেই দিতে হবে। তাহলে সমাজব্যবস্থা সুখী-সমৃদ্ধময় হতে পারবে না।”
পুলিশপ্রধান বলেন, “আইন-সংবিধান অনুযায়ী আমাদের চলতে হবে। সেই জিনিসগুলো যদি আমরা না করি, সমাজে কেউ আপনারা দিনে হোক রাতে হোক কোথাও শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন না।
“সুতরাং দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন, এটা স্বীকার করে নিয়ে আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন।”
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, “বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা তো আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। আমরা কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স অ্যাপ্লাই করি নাই। আপনারা দেখেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে যে পুলিশের অবস্থা ছিল, পুলিশ রাস্তায় ডিউটি করার জন্য ভয় পেত, তারা যেতে সাহস পেত না।
তিনি বলেন, সেই অবস্থা থেকে আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধিময় বাংলাদেশ, আপনাদেরকে প্রকৃত স্বস্তি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেওয়ার জন্য, আপনার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
