নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপি আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি খাতে অচলাবস্থার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। গণবিক্ষোভ সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ শুরু করেছে এনসিপি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক পথে চলছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে নিতে হবে এবং তাঁদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি সালাহউদ্দিন আহমদ। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কায়দায় জনগণের অধিকার হরণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
জ্বালানিমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে গত সাত মাসে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। এমনকি জ্বালানিমন্ত্রীকেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁরও দায়িত্বে থাকার অধিকার নেই।
আরও পড়ুন: ‘এনসিপির কমিটিতে ছাগলচোর ও ল্যাপটপ চোর’
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের ব্যর্থতার জন্য আরও অনেক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে আপাতত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে এনসিপি। তাঁর অভিযোগ, এর আগে তথ্যমন্ত্রীসহ কয়েকজনকে সরিয়ে দেওয়া হলেও কেন তাঁদের অপসারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। যাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। সাংবাদিকদের ওপরও হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গেলেও বাধার মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে গুলি করে এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আরেকজনকে গুলি করা হয়। ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডায় হামলা এবং বিসিবি চত্বরে সালমান ইত্যাদি স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গত নয় মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিদের মধ্যে ৮৭ জন নিহত এবং ৬৩৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে যে আইন ছিল, সেটি সংশোধন করে আরও দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
