×

চিত্র বিচিত্র

'গৃহযুদ্ধে' লিপ্ত উগান্ডার শিম্পাঞ্জিরা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

'গৃহযুদ্ধে' লিপ্ত উগান্ডার শিম্পাঞ্জিরা

ছবি : সংগৃহীত

উগান্ডার কিবালে ন্যাশনাল পার্কে বসবাসরত শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে বিরল এক ‘গৃহযুদ্ধ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একসময় শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করা এই বৃহৎ শিম্পাঞ্জি গোষ্ঠী এখন বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলায় লিপ্ত।

নগোগো শিম্পাঞ্জি প্রকল্পের সহপরিচালক অ্যারন স্যান্ডেল জানান, ২০১৫ সালের ২৪ জুন প্রথম অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। সেদিন শিম্পাঞ্জিরা হঠাৎ নীরব হয়ে পড়ে, অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত ভঙ্গি প্রদর্শন করে এবং একে অপরকে স্পর্শ করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে। খবর সিএনএনের।

এর আগে প্রায় দুই দশক ধরে ২০০ বেশি সদস্যের এই শিম্পাঞ্জি সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। একসময় ঘনিষ্ঠ এই গোষ্ঠী বিভক্ত হয়ে দুটি দলে পরিণত হয়—ওয়েস্টার্ন ও সেন্ট্রাল শিম্পাঞ্জি।

গবেষকদের মতে, ওই ঘটনাই ছিল বিভাজনের সূচনা, যা পরে সংঘাতের রূপ নেয়। বর্তমানে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ হচ্ছে এবং এতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শাবকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটছে।

সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই সংঘাতকে শিম্পাঞ্জিদের ‘গৃহযুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এমন ঘটনা প্রায় ৫০০ বছরে একবার ঘটে এবং এর আগে মাত্র একবারই এ ধরনের সংঘাত দেখা গেছে।

শিম্পাঞ্জিরা স্বভাবগতভাবেই নিজেদের এলাকা রক্ষায় তৎপর। সাধারণত তারা দলবদ্ধভাবে টহল দেয় এবং প্রতিপক্ষের সদস্য পেলে আক্রমণ চালায়। তবে নগোগোর ক্ষেত্রে একই গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে এই সংঘাত বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওয়েস্টার্ন শিম্পাঞ্জিরা প্রতি চার মাসে প্রায় ১৫টি টহল পরিচালনা করেছে এবং সেন্ট্রাল দলের অন্তত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুইটি শাবককে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত সেন্ট্রাল দলের ৭ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৭ শাবকের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। আরো ১৪টি নিখোঁজ রয়েছে।

প্রথম প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালে, যখন ‘এরোল’ নামে এক তরুণ শিম্পাঞ্জিকে পাঁচটি ওয়েস্টার্ন পুরুষ শিম্পাঞ্জি আক্রমণ করে হত্যা করে। পরবর্তী বছর ২০১৯ সালে আরেকটি ঘটনায় ‘বেসি’ নামে ৩৩ বছর বয়সী এক শিম্পাঞ্জি নির্মম হামলার শিকার হয়ে মারা যায়।

গবেষকরা জানান, একসময় পুরো এলাকা জুড়ে চলাচল করলেও এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে শিম্পাঞ্জিদের আবাসস্থল। সীমান্ত ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ওয়েস্টার্ন দলটি ধীরে ধীরে আধিপত্য বিস্তার করছে।

আরো পড়ুন : এবার ট্রাম্পের শ্রম সচিবের পদত্যাগ

এই সংঘাতের কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে গবেষকদের ধারণা, ২০১৪ সালে কয়েকটি শিম্পাঞ্জির মৃত্যু, ২০১৫ সালে নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং ২০১৭ সালের এক শ্বাসতন্ত্রজনিত মহামারি সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল করে দেয়, যা বিভাজন ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা মানব সমাজের সংঘাত বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে ধর্ম বা জাতিগত বিভাজনের মতো মানবিক কারণ না থাকলেও সম্পর্কের পরিবর্তন কীভাবে সহিংসতায় রূপ নেয়, তা এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ এর দশকে তানজানিয়ার গোম্বে ন্যাশনাল পার্কে গবেষক জেন গুডল প্রথমবারের মতো শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে অনুরূপ ‘গৃহযুদ্ধ’ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, যা ‘ফোর-ইয়ার ওয়ার’ নামে পরিচিত।

বর্তমান পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষকদের দুটি সম্ভাবনা রয়েছে—একদিকে সেন্ট্রাল দল সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, অন্যদিকে শক্তিশালী ওয়েস্টার্ন দল প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। যদিও পুনর্মিলনের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ঘোষণা ছাড়াই বাস ভাড়া বৃদ্ধি, ভোগান্তিতে নগরজীবন

ঘোষণা ছাড়াই বাস ভাড়া বৃদ্ধি, ভোগান্তিতে নগরজীবন

বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ আলকারাজ-সাবালেঙ্কা, দল পিএসজি

বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ আলকারাজ-সাবালেঙ্কা, দল পিএসজি

দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগের নেত্রী

দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগের নেত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App