জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন হেফাজতে: পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কারা কোন উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে জাসদের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে একাধিক প্রিজন ভ্যানে করে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযান শেষে সন্ধ্যায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের মধ্যে হতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য, জাসদ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বৈঠক করছেন -এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ওই ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী ধরনের তথ্য ছিল এবং সেখানে তারা কী কর্মকাণ্ড করেছেন- এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে পল্টন থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তা এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্তের স্বার্থে তাদের আশপাশের অন্য থানাতেও নেওয়া হতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ আরও জানান, যাচাই শেষে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে না, তাদের প্রচলিত প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক বা অন্য পেশার কেউ রয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যও রয়েছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে হাতকড়া পরানো একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে এবং আরও কয়েকজনকে পুলিশ নিয়ে গেছে। পরে তিনি পল্টন থানায় থাকার কথাও জানান।
এর আগে অভিযান শুরুর সময় পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন জানিয়েছিলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক ছিলেন।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জানান, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং ভেতরে একটি সভা চলছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত অনেককে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের দাবি, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে ৩০০ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের ওপর হামলা হয়। তার অভিযোগ, বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং পরে তারা কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
তবে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাসদ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন তা অস্বীকার করে বলেন, সেখানে জাসদের প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সেখানে আসার কোনো কারণ নেই।
জাসদের এই নেতা আরও দাবি করেন, দুপুর ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কার্যালয় থেকে বের করে দেয়। এরপর জাসদের নেতাকর্মীদের হেফাজতে নেওয়া শুরু হয়।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, জাসদ কার্যালয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের কর্মকাণ্ড যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
