চিফ হুইপের মন্তব্যে হাসনাত
নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ফাইল ছবি
রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিদেশে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়া এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের সন্তানদের অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চর্চার কঠোর সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, নেতারা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বিদেশে পাঠান, অথচ সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে তাঁদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত আবদুল্লাহ।
চিফ হুইপের বক্তব্যে তাঁর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, জন্ম থেকেই তাঁরা দেশটির নাগরিক এবং সেখানে ভালো চাকরি করে শান্তিতে জীবনযাপন করছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
রাজনীতিবিদদের এমন দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, দেশের রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেমের নমুনা এতটাই করুণ যে তাঁরা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্যও দেশের ওপর ন্যূনতম ভরসা রাখতে পারেন না।
আরও পড়ুন: ‘ইশরাক ভাই সমালোচনাকে সাধুবাদ জানাবেন, নিজেকে শুধরে নিবেন’
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনীতিবিদেরা নিজেদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেন। অন্যদিকে, সাধারণ পরিবারের সন্তানদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়। নেতাদের পেছনে ঘুরতে গিয়ে সাধারণ কর্মীরা নিজেদের মূল্যবান সময় ও জীবন নষ্ট করছেন, পাশাপাশি পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন।
নেতা ও সাধারণ কর্মীদের পরিবারের জীবনযাপনের বৈষম্য তুলে ধরে হাসনাত আরও বলেন, অর্থের অভাবে অসহায় রাজনৈতিক কর্মীর সন্তানকে অসুস্থ অবস্থায় চানখারপুলের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। অথচ একই সময়ে রাজনীতিবিদদের সন্তানেরা বিদেশে লিভারপুলের মতো জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করেন।
রাজনীতির এই বৈষম্যমূলক চর্চার সমালোচনা করতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে।’
এ ধরনের অন্ধ ও আত্মঘাতী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাধারণ তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে রাজনীতিবিদদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রবণতার বিপরীতে সাধারণ কর্মীদের পরিবারের অনিশ্চয়তা ও ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
