রাশেদ খাঁন
‘শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার কাজ চুমু দেওয়া নয়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুকন্যাকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং এর জেরে শিশুটির বাবার হাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের চড় খাওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাশিক্ষা নিয়ে বিতর্কও দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, চুমু দেওয়া কোনো শিক্ষকের কাজ নয়, এমনকি কোনো রাজনৈতিক নেতারও কাজ নয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুকন্যাকে এক শিক্ষকের চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং পরে শিশুটির বাবার ওই শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেক অভিভাবককে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ মাদ্রাসাশিক্ষার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে পুরো মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়। শিশুটির বাবাও তাঁর বক্তব্যে এমন মনোভাব তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করেন, দেশের মাদ্রাসাশিক্ষকেরা এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার খুঁজতে এগিয়ে আসবেন, প্রতিবাদ জানাবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।
আরও পড়ুন: ‘এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক’
সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক বাবা-মায়ের কাছে সন্তান একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের প্রতি কেউ কুনজর দিলে অভিভাবকদের ক্ষুব্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক।
তবে এ প্রসঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতার প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার আচরণের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, ওই নেতা হয়তো শিশু বা অন্য কারও প্রতি স্বাভাবিক স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এমনটি করেন। কিন্তু তাঁর আচরণে প্রভাবিত হয়ে অন্য কেউ একইভাবে আবেগ প্রকাশ করলে কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা শিশুদের প্রতি কুনজর দিলে তার পরিণতি কী হতে পারে, টঙ্গীর ঘটনা তার উদাহরণ।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ওই রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে চুমু দিয়ে স্নেহ বা ভালোবাসা প্রকাশ করেন— এমন অভিযোগ তিনি করছেন না। তবে বর্তমান বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপটে এ ধরনের চুমু কোনো শিশু বা ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হতে পারে।
টঙ্গীর ঘটনার পর ওই রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতাও নিজের আচরণ সংশোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
