চৈত্র মাসে শীতের ঘন কুয়াশা পঞ্চগড়ে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুযায়ী এখন বসন্তের শেষ পর্যায়। সাধারণত এই সময়ে ঝকঝকে রোদ পড়ে, কিন্তু বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে পঞ্চগড় আকস্মিক ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলা জুড়ে ঘন কুয়াশা বিরাজ করেছিল।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির এমন পরিবর্তন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে নির্দেশ করছে। তবে আবহাওয়া অফিসের ব্যাখ্যা, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিনের ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে এই ধরনের কুয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে।
বাংলা বর্ষপঞ্জিতে ষড়ঋতুর গণনায় এখন গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা। কিন্তু এবার পঞ্চগড়ে এখনও গরম আবহাওয়া শুরু হয়নি। কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি নামছে। বৃষ্টি না থাকলেও মেঘলা আকাশে হালকা শীতের ছোঁয়া বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার ভোরে তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা গেছে। রাস্তা-ঘাট, মাঠ, ফসলি জমি ও গাছপালা কুয়াশায় ঢাকা ছিল। কৃষিজমির ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু দেখা গেছে।
আরো পড়ুন : দেশের ৯ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আভাস
জেলা শহরের কলেজ রোড এলাকার ভ্যান চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, শীতকালে এমন কুয়াশা দেখা যায়। আজকের ঘন কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে যেন আবার শীত ফিরে এসেছে। ভোর থেকে কিছু দেখা যাচ্ছিল না, এখন ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে।
ময়দানদীঘি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও পরিবেশবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার এমন বৈচিত্র্য লক্ষ্য করছি। চিরচেনা বাংলার রূপ হারিয়ে যাচ্ছে। চৈত্রের এই সময় সাধারণত তীব্র গরম থাকে, কিন্তু পঞ্চগড়ে এখনও শীতের ছোঁয়া অনুভূত হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, এই ধরনের কুয়াশাকে সাধারণত ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা হয়। বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিনের ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প ক্ষুদ্র জলকণায় ঘনীভূত হয়। মৌসুমী বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছে এসে শীতলতার সংস্পর্শে এলে এটি ঘন কুয়াশায় রূপ নেয়। এছাড়া দক্ষিণা বাতাস, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা, দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য, হঠাৎ বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় আকাশে মেঘ থাকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
