×

রংপুর

গাইবান্ধায় নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:১৬ পিএম

গাইবান্ধায় নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। পানির এমন ওঠানামায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। একই সঙ্গে বন্যার প্রভাবে জেলার অন্তত ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি উপজেলায় বন্যায় মোট ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৫ হেক্টর আউশ ধান, ৩০ হেক্টর পাট, ২৫ হেক্টর তিল, ৮ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ১০ হেক্টর শাকসবজির জমি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর পানি ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করছে। জেলার চারটি উপজেলার অন্তত ২৫টি স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় গত কয়েক দিনের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বেড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী অন্তত ৮০০ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা এলাকা। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে এসব এলাকার সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি এবং বিপুল সংখ্যক গাছপালা। এছাড়া কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর এবং উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার কেরানির চর এলাকায়ও ভাঙন থামেনি। সেখানে দুই শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং একশ বিঘার বেশি ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকাও ভাঙনের কবলে পড়েছে।

সদর উপজেলার মোল্লাচর ইউনিয়নের চিথতুলিয়া দিগর গ্রামের কৃষক আশরাফ বলেন, “বন্যার কারণে আমার তিন বিঘা জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে।”

সিধাইল গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, “আমার জীবদ্দশায় নয়বার আমাদের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। বাবার সময়ও বহুবার হয়েছে। এবারও ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে ২০টির বেশি পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। আরও অনেক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালিরখামার গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে তাঁর দুই বিঘা জমির পাটক্ষেত গলাসমান পানির নিচে চলে গেছে। এতে পাটগাছে পচন ধরেছে।

একই এলাকার কৃষক আঙ্গুর মিয়ার ভাষ্য, “হঠাৎ ভারত থেকে পানি ছাড়ায় নদীর পানি বেড়ে গেছে। আমার এক বিঘা তিলক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।”

ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আয়নুল মিয়া বলেন, “পানি বাড়ার কারণে সবজির জমিগুলো নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন ধীরে ধীরে বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে।”

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হালান্ডের সুযোগ নষ্টের পরও হাফটাইমে নরওয়ে এগিয়ে

হালান্ডের সুযোগ নষ্টের পরও হাফটাইমে নরওয়ে এগিয়ে

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

গাইবান্ধায় নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

গাইবান্ধায় নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App