বিজয়া দশমী আজ, ঢাক-শঙ্খের ধ্বনিতে বিদায়ের সুর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ফাইল ছবি
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দেবী দুর্গার বিদায় উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে থাকবে বিষাদের আবহ। ভক্তদের চোখের জলে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন তিনি।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। এরপর দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের অনুভূতিও কাজ করে। বছরজুড়ে আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: মোদির বাসভবনের পাশে ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়াও এ দিনের অন্যতম শিক্ষা। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয় এ উৎসবের মধ্য দিয়ে।
দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে আজ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠবেন সনাতনী নারীরা। দেবীর চরণে নিবেদন করা সিঁদুর নিয়ে একে অপরকে রাঙিয়ে দেবেন তাঁরা। প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দেবী দুর্গার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার পর সেই সিঁদুর নিজের সিঁথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি নিবেদনের মধ্য দিয়ে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর নারীরা পরস্পরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে শেষবারের মতো দেবীর আরাধনা করবেন তাঁরা।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে উৎসবের আনন্দ, সম্প্রীতি ও দেবী দুর্গার কাছে কল্যাণ কামনার স্মৃতি ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা পর্যন্ত।
