বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েই যা বললেন নতুন কোচ ডুলি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
থমাস ডুলি। ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডাগআউটে অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ অপেক্ষার। দুই বছরের চুক্তিতে আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন লাল-সবুজের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। ঢাকায় পা রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ হিসেবে সবার সামনে হাজির হয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে বাংলাদেশে এসে বিকেলেই তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে। বাফুফের নবনির্বাচিত সভাপতি তাবিথ আউয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের নতুন কোচের পরিচয় করিয়ে দেন।
বাফুফের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে ঢাকায় আসা নতুন মার্কিন কোচ টমাস ডুলি মঞ্চে দাঁড়িয়েই শোনালেন তার পরিকল্পনার কথা। মাঠের কৌশল নিয়ে ডুলির চিন্তাভাবনা একেবারেই স্পষ্ট; বল তাড়া করার চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখাই তার মূল মন্ত্র।
লাল-সবুজের ফুটবলারদের নান্দনিক ফুটবলের দীক্ষা দিতে চাওয়া টমাস ডুলির ভাষায়, ‘দলকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে সবার নজর কাড়বে। আমি নিজে ফুটবল খেলতেই ভালোবাসি, বলের পেছনে দৌড়াতে পছন্দ করি না। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও এটাই বলি। বলের পেছনে শুধু শুধু দৌড়ানো মানে কোনো লাভ ছাড়াই শক্তি নষ্ট করা। আমি মাঠে বল পায়ে রেখে নান্দনিক ফুটবল খেলা পছন্দ করি। আর খেলোয়াড়দের ভেতর সেই জেদটা তৈরি করতে চাই।’
১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডুলি নিজের লক্ষ্য নিয়ে স্পষ্ট করেই বলেন,‘আমার লক্ষ্য হলো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা।’
তবে বর্তমান বাস্তবতাও ভুলে যাননি এই মার্কিন কোচ। বাংলাদেশের ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে ১৮০-এর আশপাশে ঘোরাঘুরি করায়, রাতারাতি যে র্যাঙ্কিংয়ে বড় কোনো লাফ দেওয়া সম্ভব নয়, সেই বাস্তব সত্যটাও সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের সমর্থকদের ফুটবলীয় উন্মাদনা ও মাঠের বাইরের চাপ সামলাতে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত দাবি করেছেন থমাস ডুলি। জার্মানির ফুটবল সংস্কৃতির উদাহরণ টেনে বাফুফের এই নতুন কোচ গত দুই দশকের ট্রফি খরা কাটানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে মাঠের বাইরে হয়তো প্রায় ১০ লাখ কোচ আছেন, তাঁরা সবাই ফুটবলটা খুব ভালো বোঝেন... তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা গত ২৩ বছরে কি কোনো বড় ট্রফি জিতেছি? আমার মনে হয়, এবার সেই খরা কাটানোর সময় এসেছে।’
