সিলেটে হাম-উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে।
এর সঙ্গে নিশ্চিত হামে মারা যাওয়া ১০ জন যোগ করলে হাম ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৮ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৪১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নতুন করে মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ১০ মাস এবং অন্যজনের ৯ মাস। দুজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ধারাবাহিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮১ জন নতুন রোগী ভর্তির তথ্য জানানো হয়েছিল। ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৬২৯ জন এবং সন্দেহজনক হামে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৬৬ জন। নিশ্চিত হামে মারা যান ১০ জন।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৪ জন। ওই সময় হাম ও হামের উপসর্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৬৮ জন—এর মধ্যে ১০ জন নিশ্চিত হাম এবং ১৫৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ছিলেন।
২৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে জেলা ভিত্তিতে হাম ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সিলেট জেলায়। এ জেলায় মারা গেছেন ৭১ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৬৬ জন, হবিগঞ্জে ২৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৫ জন মারা গেছেন। চার জেলার মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৮ জন।
এদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্তের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নোট: ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ‘সন্দেহজনক হামে মৃত্যু ১৬৮’ এবং ‘নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০’—এই দুই হিসাব আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৮ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
