ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচু্ক্তিতে বাগড়া ইসরায়েলের, জোরালো আক্রমণের ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি
চলমান সংঘাতের বৈশ্বিক প্রভাব কাটাতে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ আরও বাড়াতে প্রকাশ্য ঘোষণা দিচ্ছে ইসরায়েল। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনের পরিবর্তে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বহুল প্রত্যাশিত এই শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করছেন ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থি থেকে শুরু করে কট্টরপন্থি রাজনীতিবিদরা পর্যন্ত। তারা ইরানের দেওয়া শান্তিচুক্তির ‘রেডলাইন’ লেবাননে শুধু হামলা অব্যাহতই নয়, বরং জোরালো আক্রমণ চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তেহরান বারবার বলে আসছে, শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আগে অবশ্যই লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, জিহাদি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সীমান্ত ও ইসরায়েলি জনবসতি রক্ষার জন্য আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে।
ইসরায়েল বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ভূমি থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয়... আমরা এই চুক্তির পক্ষে নই। চুক্তিটি আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য এখনও হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। এটা না করা পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হব না। ইসরায়েলি সেনারা যে এলাকাগুলো দখল করেছে এবং যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, সেসব এলাকা থেকে তারা পিছু হটবে না।
ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ইয়ার গোলান এই শান্তিচুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, এক নিমেষেই আমাদের পাইলটদের সাহস ও যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিশাল সামরিক সাফল্য মুছে ফেলা হয়েছে। আর নেতানিয়াহু দুর্বল, অসুস্থ, বিচ্ছিন্ন ও ক্ষমতাহীন হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গোলান এই চুক্তিকে ‘বহু বছরের ব্যর্থতার চূড়ান্ত পরিণতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু তার মেয়াদ শেষ করছেন এমন এক সময়ে যখন ইসরায়েলের শত্রুরা আরও শক্তিশালী, ইসরায়েল আরও দুর্বল এবং আমাদের যোদ্ধাদের রক্তে গড়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা আমাদের চোখের সামনেই ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তির আলোচনায় ইসরায়েলকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইসরায়েলের অনেক রাজনীতিবিদ ও সাধারণ নাগরিক মনে করেন, ইরান-সমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে আইডিএফের লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৭১১ জন লেবানিজ নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করে। ওই হামলার জবাবে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই নতুন যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েলি হামলায় শুধু বহু বেসামরিক মানুষ নিহতই হয়নি, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য বাড়িঘরও ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে গুরুতর মানবিক ও শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ের নোটিশে, অনেক ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই জারি করা উচ্ছেদ আদেশের কারণে লাখো মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান, রয়টার্স
