×

জাতীয়

রাজপথে বিজয় সুনিশ্চিত

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৩, ০৬:৪৩ পিএম

https://www.youtube.com/watch?v=rcRk936_H5I&ab_channel=BhorerKagojLive

রাজপথের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে বিএনপির বিজয় এবার সুনিশ্চিত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সরকার পদত্যাগ না করলে, পালানোর পথ খুঁজে পাবে না বলে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।

সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বিএপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিকেল তিনটায় রাজধানীর প্রবেশ মুখে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশি হামলা এবং এরপর মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিএনপির এ জনসমাবেশ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালাম।

মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় জনসমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা বরকতুল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এডভোকেট জয়নুল আবদীন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, কামরুজ্জামান রতন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, রকিবুল ইসলাম বকুল, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) অধঅধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম বাবুল, রওলামা দলের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক খান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, মৎস্যজীবী দলের মো. আবদুর রহিম।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২৮-৩০ জুলাই আওয়ামী লীগ ক্রিকেটের মতে গুগলি খেলেছে। অবৈধ সরকারের পুলিশ আমাদেরকে ২৭ জুলাই সমাবেশ করতে দিবে না। আমরা তো পরেরদিন করলাম। সেখানে প্রতিকূল পরিবেশেও টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। তাদের বার্তা ছিলো, এই মুহূর্তে গদি ছাড়ো। আমাদের ছোট ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতেও সরকার ভয় পেয়েছে। তারা যুদ্ধের সাজে সাজোয়া যান নিয়ে নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলা করেছে। প্রবীণ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক থাকে না তারাই এগুলো করে। এই নাটকে তারাই ছোট হয়েছে। গয়েশ্বর, আমান ছোট হয়নি। এই সরকারের পায়ের নিতে মাটি নেই। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করেছে। এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। চল্লিশ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এগুলো করে কি মানুষের ঢল থামানো গেছে। থামানো যায়নি, যাবে না। সুতরাং এনাফ ইজ এনাফ (যথেষ্ট)।

মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকটা লোককে বিদেশ থেকে ভাড়া করে এনেছে। একজন নাকি আমেরিকার। তিনি কে? তাকে তো আমেরিকার কেউ চেনে না! গতবারও তাকে আনা হয়েছিলো। এভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে আবারো নিজেদের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। তবে দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন চায় না। আমরাও নির্বাচন চাই। সেটা হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সব দল আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করছি। দাবি এক দফা। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। অবিলম্বে পদত্যাগ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও। না হলে পালাবার পথ খুঁজে পাবে না। অবিলম্বে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করুন। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। হামলা, মামলা গ্রেপ্তার হয়রানি বন্ধ করুন। না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে।

‘স্পষ্ট কথা- বার বার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান। এবার আর সেটা হবে না। দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে আর আগের মতো নির্বাচন করা যাবে না। কারা কর্তৃপক্ষ যদি জেলকোডের বাইরে কিছু করেন সবকিছুর হিসাব দেশের মানুষ বুঝে নেবে’ - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব, বিএনপি

তিনি বলেন, আজকে সরকার প্রধান ভয় পাচ্ছেন। তাদেরকে বলবো, জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে বাধা দিবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। শিগগিরই এক দফার পরবর্তী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরো পড়ুন: শোকের মাস আগস্টে আ.লীগের কর্মসূচি

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক প্রান্তে পিকআপ ভ্যানে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করে বিএনপি। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। তারা দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াসহ বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি জানান।

দুপুর একটার পর থেকে সমাবেশে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে।

বিএনপির জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ও বাইরে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যরা সর্তক টহল দিতে থাকে। সমাবেশ চলাকালে তিনটি ড্রোন সার্বক্ষণিক উড়তে দেখা যায়।

আরো পড়ুন: আন্দোলন দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই

সমাবেশ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, গত ১৫ বছরে আমরা সভা সমাবেশ করে অনেক বক্তব্য রেখেছি আজকে নিজেদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে এসেছি। কারন ২৯ জুলাই আমাদের কর্মীদের ওপর সরকার যে বর্বরোচিত আচরণ করলো তা এর আগে কখনো দেখিনি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে নারকীয়। তবে এভাবে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, এ দেশ কারো কাছে ইজারা দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন বন্ধ হবে না। আমাদের একটাই দাবি, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পতন। জেল ভাঙার আগে বিএনপির বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান আব্বাস।

আরো পড়ুন: এবার সরকারের পতন ঘটিয়েই ঘরে ফিরব

‘সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে, এটা ভুলে যান। সংবিধান রেখেছেন, সংবিধান তো গিলে খেয়ে ফেলেছেন। এখন কোনো সংবিধান আছে? নির্বাচন কমিশন আছে? আমার বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার আবার চুরি করবেন, এটা হবে না। সংবিধান আপাতত একদিকে থাকুক’ - মির্জা আব্বাস স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকমীকে উপলব্ধি করতে হবে আমরা এখানে এসেছি সরকারের পতন নিশ্চিত করতে। সরকাের সত্যিকার যে চরিত্র উন্মোচন হয়ে গেছে। এই এক দলীয় সকরার দেশের ১৭ কোটি মানুষের টুটি চেপে ধরেছে, তা আমাদের ছাড়াতে হবে। তারা নতুন করে অলিখিত বাকশাল কায়েম করে যা খুশি তা করছে। তিনি বলেন, লগি বৈঠার সরকার বিএনপির নেতাদের সাপের মতো পিঠিয়েছে। ধোকাবাজির সরকার মুখে যা বলে কাজে তার উল্টোরা করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সরকার এ সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এি সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গBতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্দোলনের প্রস্তুতি সব সময় আছে, নতুন করে প্রস্তুতি নেয়ার কিছু নেই। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব কে দেবে তা বিচার বিভাগ বা সরকারের হাতে নয়, তা ঠিক করবে দেশের জনগণ। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।

আরো পড়ুন: আবারো সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা পেলো বিএনপি

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপি পাশাপাশি তথাকথিত শান্তি সমাবেশ থেকে তো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়না। এসব প্রহসন আর চলতে দেয়া হবেনা। একটি দেশের জনগণ যখন তার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে লড়াই করে তা অসাংবিধানিক নয়। আগামী দিনে দেশের মানুষ রাস্তায় থাকবে। বাধা এলে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করবে। তাই ক্ষমতাসীনদের প্রতি পরিস্কার বার্তা সারাবিশ্বেসহ দেশের মানুষ বিএনপর আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে৷ তাই এই আন্দোলন সফল না হওয়া পযর্ন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবোনা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে একের পর এক নাটক সাজাচ্ছে সরকার। সরকার মানবিক হওয়ার চেষ্টা করছে, দেশের মানুষ বোঝে আপনারা কতোটা অমানবিক। এর আগেও তো কর্মসূচিতে অনেক নেতারা আহত কেউ তো দেখতে আসেনি, আদর করে খাওয়ায়নি, তাহলে এখন কেনো এতো দরদ? কারন বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে আছে, সব দল মত নির্বিশেষে সবাই সরকারের বিপক্ষে চলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, এটা তো শুরু, সরকার খন চলে যেতে বাধ্য হবে তখন হবে এই নাটকের শেষ দৃশ্য। আমাদের এবারের বিজয় নিশ্চিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন

হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন

কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App