ন্যু ক্যাম্পে ক্লাসিকোর উত্তাপ, ‘গোলমেশিন’ বার্সার বড় পরীক্ষা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ম্যাচটির জন্য অপেক্ষা করছে বার্সেলোনা। রোববার এল ক্লাসিকোতে তারা স্বাগত জানাবে রিয়াল মাদ্রিদকে, যে ম্যাচ শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ৯-এ বাড়ানোর সুযোগ। যদিও বার্সা কোচ জানিয়ে রেখেছেন, তারা তিন পয়েন্টের জন্য খেললেও ম্যাচের গুরুত্ব শুধু পয়েন্ট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচটির শুরুর আগে কিছু অস্থিরতা হান্সি ফ্লিকের স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। এই যেমন গত সপ্তাহে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগে হার, যা চলতি মৌসুমে তাদের জন্য প্রথম। সেই ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নেওয়াটাই হবে বার্সার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ টানা চারটি ম্যাচ জিতেছে। গত বুধবার তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে বিধ্বস্ত করেছে আরবি লাইপজিগকে। হোসে মরিনিও আসার পর প্রথমবার তারা দল হিসেবে খেলতে শুরু করেছে।
রিয়াল যদি জেতে, তাহলে বর্তমান ছয় পয়েন্টের তফাৎ শুধু অর্ধেকেই নামবে না, শেষ সাত ক্লাসিকোর মধ্যে ছয়টি ম্যাচ হেরে যাওয়া দলের জন্য হবে উজ্জীবনী শক্তি। মরিনিওর ফেরাটা এই লড়াইকে যেন আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
৬৩ বছর বয়সী মরিনিও বার্সেলোনার বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন ২৭ ম্যাচ, এর মধ্যে রিয়ালের বেঞ্চে থেকে ১৭টি এল ক্লাসিকো দেখেছেন। ২০১০ সালে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে প্রথমবার মরিনিওকে দায়িত্ব দেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তার আশা, পর্তুগিজ কোচ দ্বিতীয়বার বার্নাব্যুতে লা লিগা শিরোপা আনতে পারবেন।
রিয়ালে প্রথম মেয়াদে এল ক্লাসিকোর আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত ম্যাচের দেখা পাওয়া গেছে মরিনিওর সৌজন্যে। রোববার ন্যু ক্যাম্পে তার প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ থাকতে অনেক ক্যামেরাই থাকবে তার দিকে। পর্তুগিজ কোচ তার প্রথম ১০ এল ক্লাসিকোর মাত্র একটি জেতেন। কিন্তু শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত তিনি, এর মধ্যে তিনটি জয়।
ফ্লিকের বার্সা টানা দুটি লা লিগা শিরোপা জিতেছে এবং ৯ ম্যাচের সবগুলো জিতে বর্তমানে শীর্ষে তারা। আর দুটি মৌসুম বড় কোনো ট্রফি ছাড়াই শেষ করা দলের দায়িত্ব পেয়েছেন মরিনিও। ইতোমধ্যে দুটি লিগ ম্যাচও হেরেছে তার দল।
২০২৪ সালে বার্সায় যোগ দেওয়া ফ্লিকের তুলনায় মাত্র কয়েক মাস হলো মাদ্রিদ ক্লাবে এসেছেন মরিনিও। বার্সার সঙ্গে তুলনায় যেতে নারাজ তিনি, ‘আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে দেখা হয় এবং এটা ফুটবলে চরম কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। আমরা তিন মাস ধরে কাজ করছি, প্রাক মৌসুমে খেলোয়াড়রা যোগ দিয়েছিল, তারপর তো আন্তর্জাতিক বিরতি ছিল। আমরা এখনও শুরুর পর্যায়ে, যেখানে কোচ তার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানে, তাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে এবং কর্মপরিকল্পনা করে। আর খেলোয়াড়রা তার ধারণা সম্পর্কে বুঝতে পারে। কয়েক বছর ধরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আরেকটি দলের সঙ্গে এই পর্যায়ের একটি দলের তুলনা করাকে আমি ন্যায়সঙ্গত মনে করি না।’
জার্মান কোচ ফ্লিক কিন্তু রিয়ালকে নিয়ে সতর্ক। মাদ্রিদ ক্লাব অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে মনে করেন তিনি। পয়েন্ট ব্যবধানে বড় তফাৎ থাকলেও এই ম্যাচ নিয়ে তার ভাবনা অন্যরকম, ‘এল ক্লাসিকো একেবারে আলাদা, আমাদের খেলায় এটা সেরা ম্যাচ। সবাই দেখবে এটি। এটা অসাধারণ। এটা সত্যি যে আমরা শুধু তিন পয়েন্টের জন্য খেলছি। কিন্তু এই ম্যাচের গুরুত্ব তার চেয়েও বেশি। এই ম্যাচে অংশ নিতে পেরে খুশি। অধীর অপেক্ষায় আছি এই লড়াইয়ের জন্য। আমরা প্রস্তুত এবং আমাদের দলের ওপর প্রবল আত্মবিশ্বাস আছে।’
ব্যালন ডি’অরের আগের দিন হওয়ায় এল ক্লাসিকো চরম উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ফুটবল বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিগত পুরস্কার পাওয়ার দৌড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবেন কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামাল। দুজনেই আছেন দারুণ ফর্মে। রিয়ালের ফরাসি তারকা ৯ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল, ইয়ামাল একদম তার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন ৮ গোল করে। অনেকের ধারণা, এই ম্যাচে দুজনের লড়াই শেষে নির্ধারণ হয়ে যাবে ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে।
এদিকে রিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে পাচ্ছে না তাদের প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয়টি পার করছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। হেড টু হেড রেকর্ডে দুই দলই সমানে সমান। দুই ক্লাবই ১০৬টি করে ম্যাচ জিতেছ, ড্র ৫২টি। গত পাঁচ বছরে বার্সেলোনা জিতেছে ১০ বার, রিয়াল ৯ বার। শেষ ১০ ম্যাচে বার্সেলোনা ছয়টি জিতে এগিয়ে, বিপরীতে রিয়ালের জয় চারটি।
মুখোমুখি লড়াইয়ে সমানে সমান হলেও চলতি মৌসুমে লিগের ৯ ম্যাচে শতভাগ জয়ে শুরুর রেকর্ড এবং ৩৯ গোল করা ‘গোলমেশিন’ বার্সাই ফেভারিট। কিন্তু না বললেও চলে, উড়তে থাকা কাতালান ক্লাব লিগের দশম রাউন্ডে এসে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে চলেছে।
