২০০ টাকার জন্য অক্সিজেন খুলে দিল কর্মচারী, রোগীর মৃত্যু
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ট্রলি সরিয়ে নিতে গিয়ে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার কিছুক্ষণ পরই ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে হাসপাতালের মেডিনসিন বিভাগে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত দিপালী সিকদার (৪৫) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর সিকদারের স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিপালীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করে অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। শয্যা সংকটের কারণে তাকে ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিলো।
নিহতের ভাই মিলন হাওলাদার অভিযোগ করেন, মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল পাশের এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে ট্রলিটি সরিয়ে নিতে চান। মিলন তাকে বাধা দিয়ে রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানালেও সোহেল শোনেননি এবং দিপালীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্কটি খুলে দেন। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিপালী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
অক্সিজেন খুলে নেওয়ার ফলে রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এসময় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি হয়। এতে হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে আনসার সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সোহেলকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কর্মচারী হাসপাতাল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর জানান, "অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কর্মচারী সোহেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
