‘তেলের দাম বাড়ানো হয়নি, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে’
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘তেলের দাম বাড়ানো হয়নি; অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে’—এমন মন্তব্য করেছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি বলেন, দেশে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। আর পার্শ্ববর্তী দেশে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৩৪ টাকা ৫৪ পয়সা। অন্য দেশে তেল পাচার ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে একটি চক্র ভিন্নভাবে প্রচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর বাজার হাট এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চান্দহর নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চান্দহর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর লক্ষ্য চান্দহর নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, “২০০৬ সালে আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পর চান্দহর নদীকে অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ডিও লেটারও দিয়েছিলাম।”
আরও পড়ুন: সচিবের ভাই পরিচয়ে ইউএনওর কাছে লাখ টাকা দাবি, অতঃপর
নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ অর্থায়ন করায় বিএনপি নেতা মো. আমজাদ হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নদী ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চান্দহর নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এমপি শান্ত বলেন, “জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চান্দহর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আজিজুল হক টিক্কা। স্বাগত বক্তব্যে মো. আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চান্দহর নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সংসদ সদস্যের অনুপ্রেরণায় তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি চান্দহর নদী ও আশপাশের খাল খননসহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন কবির ও সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন আজিবর হোসেন, আরশাদ মুন্সি ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তাঁরা চান্দহর নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ এবং নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
