লক্ষ্মীপুরে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজন আটক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে খোরশেদ আলম নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার পার্বতীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানা। ইব্রাহিম ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। মাসুদ রানা বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছুট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু, জহিরসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছিল বলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি। ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় মাটির ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মো. মোরশেদ আলম ও মজিদ হোসেনের গ্রুপের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিরোধের জেরে বুধবার দুপুরে খোরশেদ আলমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দিলশাদপুর খাঁনের বাড়ির পাশে গুলি করা হয়। এতে তাঁর বুকে একাধিক গুলি লাগে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, নিহত খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফনের কথা রয়েছে।
