ভোর থেকে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি, শিক্ষার্থী-কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এএম
ফাইল ছবি
চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। গতকাল মঙ্গলবারের আকাশও রাত থেকে ঘন মেঘে ঢাকা ছিল। ভোর হতেই হঠাৎ করে নামে হালকা বৃষ্টি। এরপর শুরু হয় প্রবলভাবে, যা দ্রুতই নগরজীবনে প্রভাব ফেলে। এই বৃষ্টি গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও সকালে কাজে বের হওয়া মানুষের জন্য তা হয়ে ওঠে বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ। অনেকেই ভিজে অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন, ফলে সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার আগেই শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন অফিসগামী, শিক্ষার্থী এবং দিনমজুরসহ নানা পেশার মানুষ। যাদের কাছে ছাতা ছিল না, তারা আশপাশের দোকানপাট বা ভবনে আশ্রয় নেন। তবে ছাতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই পুরোপুরি রক্ষা পাননি বিশেষ করে পা, প্যান্ট ও জুতা ভিজে যাওয়ায় অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।
কাজীপাড়া এলাকায় বাসে ওঠার সময় বেশ কিছু যাত্রীকে ভিজে যেতে দেখা যায়। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরও বৃষ্টির মধ্যে পথ চলতে হয়েছে।
আগারগাঁও এলাকায় শিকড় পরিবহনের যাত্রী সালেহ উদ্দিন জানান, সকালে হঠাৎ করে আকাশ এতটাই অন্ধকার হয়ে আসে যে মনে হচ্ছিল সন্ধ্যা নেমেছে।
অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারগামী কর্মজীবী এক নারী বলেন, অফিসে যাওয়ার পথে রিকশা পেতে তাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশায় যেতে বাধ্য হন তিনি।
আরেক নারী কর্মজীবী বলেন, ছাতা থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টিতে ভেজা এড়াতে পারিনি। তবে ভোগান্তি হলেও গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।
রাজধানীতে টানা বৃষ্টির ফলে কারওয়ান বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে তীব্র যানজটও দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে অফিসগামীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই বাসা থেকে বের হলেও যানজট ও ধীরগতির কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ বাস ও রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজেই কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বৃষ্টির কারণ হিসেবে বজ্রমেঘ ও সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির কথা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টি শুধু রাজধানীতেই নয়, হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া অফিস গতকাল মঙ্গলবার সকালেই পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ সময় কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাও হবে বলে জানায় তারা। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয় পূর্বাভাসে।
৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। রাজধানীতে রাত থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নয়। কিন্তু মেঘলা আকাশ আর মাঝেমধ্যে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে সকাল থেকেই। সকাল পৌনে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও বৃষ্টি হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়ার দাপট।
এমন বৈরী প্রকৃতির মধ্যে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী, অফিস বা কর্মস্থলগামী মানুষ। রাজধানীর কিছু স্থানে জমেছে বৃষ্টির পানি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আজ রাজধানীতে এ অবস্থা চলতে পারে দিনভর। হয়তো মাঝেমধ্যে বৃষ্টি কমে যেতে পারে তারপর আবার শুরু হতে পারে। বেলা ১১টার পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ একটু কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না–ও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকালই দেশের সব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ বৃষ্টির কারণ হিসেবে আবহাওয়া অফিস বলেছিল, দেশের ভেতরেই বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। আর এ বজ্রমেঘই বৃষ্টি ঝরাবে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা। আবার আবহাওয়ার বার্তায় সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে।
বজ্রমেঘের দাপটে শুরু হওয়া বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এটাই গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র। ভোলা জেলায় এ সময় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৫১ মিলিমিটার। আর ফেনীতে বৃষ্টি হয়েছে ১৪৮ মিলিমিটার। ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ বৃষ্টি একটানা বা একযোগে সব স্থানে হবে, তা নয়। ইতিমধ্যে ভোলা ও খুলনা অঞ্চলে মেঘ কিছুটা কেটেছে। রাজধানীতে বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ থাকতে পারে দিনজুড়েই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কাটলেও একেবারে রোদেলা আকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিকেলের দিকে বৃষ্টি একটু কমতে পারে।
