সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য সুখবর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে। সরকারি ১২টি নির্দেশনা মেনে আগামী দুই মাস-৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত—দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা।
গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাহাজ ছাড়েনি। এখন কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার জন্য চারটি জাহাজ জেলা প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে।
প্রতিদিন এসব জাহাজে করে দুই হাজার পর্যটক বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। অনলাইনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট কিনতে হবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রথম দিনের যাত্রার জন্য তিনটি জাহাজে প্রায় ১,২০০ টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে।
‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন, এবং পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, পর্যটকদের আগ্রহ আশাব্যঞ্জক। ভবিষ্যতে অন্তত চার মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ পেলে পর্যটনশিল্প আরো লাভবান হবে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনের খবরে সেন্টমার্টিন দ্বীপজুড়ে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটননির্ভর জীবিকার কারণে দ্বীপবাসীরা অতিথি বরণে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম।
দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে, রাতে সৈকতে আলো বা শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ, বারবিকিউ নিষেধ, কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়া ফল সংগ্রহ–বিক্রি নিষিদ্ধ, সামুদ্রিক প্রাণী ও প্রবাল সংরক্ষণের কঠোর নিয়ম, সৈকতে মোটরসাইকেল বা যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী পরিহারের নির্দেশও রয়েছে। বিকল্প হিসেবে পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের মূল্যবান সম্পদ। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা সবারই মানা উচিত। তিনি আশাবাদী, পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট সবাই নিয়ম মেনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।
