বিবিএস জরিপ
দেশে প্রতি হাজারে ৩৩২ জন অসুস্থ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১২ পিএম
নারীর অসুস্থতার হার পুরুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ছবি : সংগৃহীত
দেশে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যায় অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব দাঁড়িয়েছে ৩৩২ দশমিক ১৯ জন (জরিপের পূর্ববর্তী ৯০ দিনে)। শহর ও পল্লী অঞ্চলে এ হার প্রায় সমান হলেও সামান্য এগিয়ে পল্লী অঞ্চলে প্রতি হাজারে ৩৩৩ দশমিক ৩০ জন; শহরাঞ্চলে ৩৩১ দশমিক ৪ জন। হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে ২০২৫ এ এসব তথ্য ওঠে এসছে।
জরিপে দেখা গেছে, নারীর অসুস্থতার হার পুরুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নারীর প্রতি এক হাজারে ৩৫৪ দশমিক ৬ জন অসুস্থ, যেখানে পুরুষের হার ৩০৯ দশমিক ২ জন।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুজুর আলী। বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা আশরাফুজ্জামান।
আরো পড়ুন : মাতৃমৃত্যুর চিত্র এখনো আশাব্যঞ্জক নয় : ৫৫ শতাংশই হয় প্রসব পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়
জরিপে শীর্ষ ১০টি রোগের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ছিল সর্বোচ্চ, প্রতি হাজারে ৭৮ দশমিক ২৮ জন। এরপর রয়েছে পেপটিক আলসার (৬৩ দশমিক ৭৯), ডায়াবেটিস (৪৩ দশমিক ১৫), বাত/আর্থ্রাইটিস (৩৯ দশমিক ৭৫), চর্মরোগ (৩৭ দশমিক ২৩), হৃদরোগ (৩১ দশমিক ৩২), হাঁপানি (৩০ দশমিক ৯৪), অস্টিওপরোসিস (২২ দশমিক ৩০), হেপাটাইটিস (২২ দশমিক ৩০) ও ডায়রিয়া (১৫ দশমিক ৮৯ জন)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থতার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এক বছরের কম বয়সী শিশুর প্রতি হাজারে অসুস্থতার হার ২৩২ জন, যেখানে ৩৯-৭৫ বছরের মানুষের মধ্যে তা ৭৫৪ জন। জরিপে আরো দেখা যায়, বয়স্ক নারীর অসুস্থতার হার পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি।
চিকিৎসা গ্রহণ ও ব্যয় সম্পর্কিত তথ্যে বলা হয়েছে, ব্যক্তিপ্রতি গড় চিকিৎসা ব্যয় ২ হাজার ৪৮৭ টাকা; নারীর ব্যয় প্রায় একই—২ হাজার ৪৭৬ টাকা। এর মধ্যে ওষুধের পেছনে ব্যয় হয় ২ হাজার ৩৮৭ টাকা। সরকারি সেবা বেশি ব্যবহার করলেও নারীর চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।
জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৫১ দশমিক ১ শতাংশ স্ব-চিকিৎসা বা স্থানীয় ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নেন, যা সহজলভ্যতা ও কম ব্যয়ের কারণে বেশি জনপ্রিয়। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছে ২০ শতাংশ মানুষ এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। নারীর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের প্রবণতা পুরুষের তুলনায় কিছুটা বেশি।
এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার হার দেশে মাত্র ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ—শহরে ১ দশমিক ৬৬ এবং পল্লীতে ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার এখন ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রসবপ্রতি গড় ব্যয় ২২ হাজার ৬৫৫ টাকা।
২৫-৪৯ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে ৫ দশমিক ২ শতাংশ জরিপকালীন সময়ে গর্ভবতী ছিলেন এবং ৬ দশমিক ৯ শতাংশ গত এক বছরে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
দেশে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ—প্রতি ১০০ জনে গড়ে ৫ দশমিক ২ জন কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করেন। নারীর ক্ষেত্রে এ হার কিছুটা বেশি—৫ দশমিক ৩ শতাংশ; পুরুষের ৫ দশমিক ১ শতাংশ। শহরাঞ্চলে প্রতিবন্ধকতার হার ৫ দশমিক ৬ এবং পল্লীতে ৩ দশমিক ১ জন।
প্রতিবন্ধকতা–সম্পর্কিত চিকিৎসা ব্যয় পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই ব্যয় গড়ে ৬ হাজার ৭৭৫ টাকা; তবে পল্লী অঞ্চলে গড় ব্যয় ৭ হাজার ২৬৯ টাকা, যা শহরাঞ্চলের ৫ হাজার ৪১৭ টাকার তুলনায় বেশি।
