মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ছোট্ট ফাতেহা
নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ছবি: নিজস্ব
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৪ মাস বয়সী কন্যা শিশু ফাতেহা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। জন্মের পর থেকেই তার ছোট্ট বুকের ভেতর লুকিয়ে ছিল হৃদপিণ্ডের তিনটি ছিদ্র। অসহায় পরিবারটি দিন-রাত এক করে লড়াই করে যাচ্ছে প্রিয় সন্তানটিকে বাঁচানোর জন্য, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই লড়াই এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম।
ফাতেহা হেসাখাল ইউনিয়নের হিয়াজোড়া উত্তর-পূর্ব পাড়ার প্রবাসী শ্রমিক নিজাম উদ্দিনের মেয়ে। বাবা সৌদি আরবের মরুভূমিতে অমানবিক কষ্ট সহ্য করে সামান্য আয়ে চার সন্তানের সংসার চালান। মা শিরিনা বেগম একজন গৃহিণী। সীমিত আয়ের এই পরিবারটির পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার বিশাল ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মা শিরিনা বেগম জানান, জন্মের কিছুদিন পর থেকেই ফাতেহা জ্বরে ভুগছিল। স্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে চিকিৎসা করানো হলেও জ্বর না কমায় ডাক্তার ইকো পরীক্ষা করাতে বলেন। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে শিশুটির হৃদপিণ্ডে তিনটি ছিদ্র রয়েছে। খবরটি যেন বজ্রপাতের মতো নেমে আসে পরিবারের ওপর।
এরপর থেকেই শুরু হয় এক অসম লড়াই। ধার-দেনা করে, মানুষের কাছে হাত পেতে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে দুইটি ছিদ্র বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখনো একটি ছিদ্র রয়ে গেছে, যা অপারেশন ছাড়া আর কোনোভাবেই বন্ধ করা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অপারেশন করা গেলে ফাতেহা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু এই অপারেশনের জন্য প্রয়োজন আরও প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা, যা এই দরিদ্র পরিবারের কাছে অধরা স্বপ্ন।
হেসাখাল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পরিবারটি ইতোমধ্যে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষরা এগিয়ে এলে হয়তো ছোট্ট ফাতেহার জীবনটা বাঁচানো সম্ভব হবে।
এবিষয়ে রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিজা আক্তার বিথী বলেন, জন্ম গত যদি হাটের সমস্যা থাকে, তাহলে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।
