নাফ নদীর ওপাড় থেকে এলো কাঠের চালান, টেকনাফ বন্দরে স্বস্তি
জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, কক্সবাজার দক্ষিণ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ছবি: নিজস্ব
বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নাফনদীর ওপাড় থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার এলো টেকনাফ বন্দরে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার পৌঁছার মধ্যে দিয়ে বন্দরে কার্যক্রম সচল হতে চলছে।
আজ (শুক্রবার) সকালে মিয়ানমারের রাখাইন স্টেট (আরাকান) এর মংডু শহরের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি জানান, ‘একটি কাঠ বোঝাই বোট বন্দরে পৌঁছেছে। প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফারুক প্রায় ৯৬৩ পিচ কাঠ বোঝাই ট্রলারটি আমদানি করেছেন। এসব কাঠ ৭ ট্রাক পরিমাণ হতে পারে। তবে এখনো ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট (আইজিএম) জমা করা হয়নি।’
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, কাঠবোঝাই ট্রলারটি নাফ নদী দিয়ে টেকনাফে ভিড়বার সময় কোনো দেশের পতাকা লাগানো ছিল না। পরবর্তী সময়ে টেকনাফ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ট্রলারটিতে একটি মিয়ানমারের পতাকা লাগিয়ে দেন। এর ফলে এই কাঠবোঝাই ট্রলারটি কি আরাকান আর্মির তত্ত্বাবধানে টেকনাফ পৌঁছে নাকি মিয়ানমার সরকারি নিয়ম অনুসৃত পথে পৌঁছেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মিয়ানমারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর হাজার হাজার ট্রলারের ড্রাফট আটকে রয়েছে। তাই মিয়ানমার সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মি (এএ), উভয়ের সাথে আনঅফিশিয়াল বোঝাপড়া করেই পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। এখানে তা ছাড়া আপাতত আর কোনো বৈধ পথ খোলা নেই বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।
এর আগে, গত এপ্রিল মাসে পৃথক ভাবে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ রাজিব আহসান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ টেকনাফ বন্দর পরিদর্শন করে গেছেন। ওই সময় মন্ত্রীদ্বয় বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।
ঘোষণার প্রেক্ষিতে বন্দর চালু হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকদের নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর একটি কাঠের বোট বন্দরে এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’
জানা যায়, শুক্রবার সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফারুকের কাছে বোটটি এসেছে।
উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ও রাখাইন ষ্টেট এর ১৭ টি শহরের মধ্যে মংডুসহ ১৩ টি শহর সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি হয়ে থাকে এ ছাড়া আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো রাখাইন স্টেট তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বছর বলে ঘোষণা করে আরাকান আর্মি (এএ)।
এর ফলে নাফ নদী-এর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠ বোঝাই ট্রলার আসায় সীমান্ত বাণিজ্যে সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
