রাত নামলেই মেঘনায় চুরির আতঙ্ক
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় রাত নামলেই চুরির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একের পর এক সিঁধ কেটে চুরির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের চন্দনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় আরও একটি চুরির ঘটনা ঘটে।
চোরেরা সিঁধ কেটে হোটেল ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার বসতঘরে প্রবেশ করে একটি স্মার্টফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং আট আনি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটছে। এ উপজেলায় প্রতি মাসে গড়ে ২৪০ থেকে ২৫০টি সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। সব ঘটনার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত না হওয়ায় প্রকৃত চুরির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
একসময় বিচ্ছিন্নভাবে ঘটলেও বর্তমানে এ ধরনের চুরি নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ফলে অনেক পরিবার রাতের বেলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, চোরেরা সাধারণত গভীর রাতে বাড়ির পেছনের অংশ বা নির্জন স্থান দিয়ে সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে তারা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। শুধু একটি-দুটি এলাকায় নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে একই কৌশলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি চোরদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং রাতের টহল জোরদারের দাবি জানান।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
