দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, মুরাদনগর ভেঙে গঠিত হলো বাঙ্গরা উপজেলা
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আন্দোলনের পর অবশেষে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলো নতুন বাঙ্গরা উপজেলা। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাস্তবে রূপ পেল এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন। উপজেলা ঘোষণার খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বাঙ্গরার সর্বস্তরের মানুষ।
বুধবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত নিকার সভায় বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এ উপজেলার প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হলো।
নবগঠিত বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর পূর্ব, পূর্বধইর পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব (সদর), বাঙ্গরা পশ্চিম, চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও টনকী।
উপজেলা অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে উদযাপন করেন স্থানীয়রা। বহু মানুষের কাছে এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কাঙ্ক্ষিত অর্জন।
স্থানীয়দের মতে, এতদিন প্রশাসনিক নানা সেবা নিতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের মুরাদনগর উপজেলা সদরে যেতে হতো। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি সবই ছিল নিত্যসঙ্গী। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি সেবা জনগণের আরও কাছে পৌঁছাবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।
বাঙ্গরা উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে ১০টি ইউনিয়নের জনগণ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, মতবিনিময় সভা, মানববন্ধন ও গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম সরকার। পরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরবর্তীতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিষয়টি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেষ পর্যন্ত নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
বাঙ্গরা থানা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সওদাগর বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাঙ্গরা উপজেলা অনুমোদন হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
বাঙ্গরা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। ২০১৪ সালে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উপজেলা ঘোষণার প্রত্যাশা ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বাঙ্গরা উপজেলার অনুমোদন সম্ভব হয়েছে। এ অর্জন পুরো অঞ্চলের মানুষের।
নতুন উপজেলা ঘোষণার পর বাঙ্গরার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের দ্বার আরও প্রসারিত হবে।
