অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের বাবুগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসা (৯) নামে এক শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঢাকা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাইসা বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি নাই দেইখা শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।’
স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে রাইসার মা অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে রাইসার বড় ভাই ঢাকায় একটি ফলের দোকানে কাজ করেন এবং তার বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম বলেন, ‘ঘটনার সময় রাইসার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মানুষের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে ওর ঘরের সামনে ছুটে গিয়ে দেখেন, শিশুটির শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় দ্রুত এক বালতি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে রাইসাকে কোলে নিয়ে পাশে থাকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভানো হয়।’
তসলিম বলেন, ‘রাইসাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই তখন প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে রাইসা দেখতে পেয়ে কাঁদতে শুরু করে এবং বলতে থাকে জালাল সিকদারের ছেলে শিফাতের জন্য তার শরীরের আগুন লেগেছে। আর ঘটনার পর সিফাতকে ঘটনাস্থলের আশেপাশে দেখা যায়নি। আদৌ কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’
তসলিম আরো বলেন, ‘ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।’
ঢাকায় হাসপাতালে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে দুই ঘণ্টা লাগে। ভর্তির পর চিকিৎসকরা জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকরা জানান, রাইসা মারা গেছে। বর্তমানে রাইসার লাশ মর্গে রয়েছে।’
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছি। তবে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি বা কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
