রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় অ্যাড. ফজলুল হক খান
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের সিংগাইরের প্রবীণ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোড সংলগ্ন নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
শুক্রবার (২০ মার্চ) জুমার নামাজের পর সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গার্ড অব অনার প্রদান করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পৈতৃক ভিটা গাজিন্দা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত্যুর আগে ওই দিন দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে লাইফ সাপোর্টসহ তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার গাজিন্দা গ্রামের সন্তান। শৈশবে তিনি জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে সিংগাইর থানা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি মানিকগঞ্জ বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি মোজাফফর ন্যাপের (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অধুনালুপ্ত মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে “কুঁড়ে ঘর” প্রতীক নিয়ে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
