দ্বন্দ্ব মিটাতে এসে হত্যার শিকার যুবক
কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) থেকে
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রতিবেশীর কন্যাজামাই বাড়ির দ্বন্দ্ব মিটাতে এসে পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছেন এক যুবক। নিহত যুবকের নাম রবিউল ইসলাম শেখ (৩৮)। তিনি পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের সারোয়ার শেখের ছেলে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দিঘা ইউনিয়নের সিন্দাইন গ্রামের শাহিদুল মোল্লা শহিদের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বোয়ালমারীর হাটখোলার চর গ্রামের হানিফ শেখের ছেলে সহিদুল শেখের। একপর্যায়ে তারা পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
এরপর কয়েক দফা পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এ সময় সহিদুল শেখ তার শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে অন্যত্র বন্ধক রাখে। মেয়ের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় মোটরসাইকেলটি ফেরত চায় শ্বশুর শহিদ মোল্যা।
আরো পড়ুন : ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
মঙ্গলবার দুপুরে মোটরসাইকেল আনতে শহিদ মোল্লা ও প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জামাই বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে মোটরসাইকেল ফেরত না দেওয়ায় বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা ফিরে গেলে পথে ফোন করে আবার বাড়িতে ডেকে আনা হয়।
সরল বিশ্বাসে দু’জন পুনরায় ফিরে এলে স্থানীয় মাতুব্বর বাবু শেখ শ্বশুরকে বসিয়ে রেখে আলোচনা করেন। এ সময় কৌশলে রবিউল ইসলামকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান সহিদুল শেখ। কিছুক্ষণ পর শ্বশুরকে জানানো হয়, পরদিন মোটরসাইকেল দেওয়া হবে। এরপর রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সন্ধ্যার দিকে বোয়ালমারী–মহম্মদপুর সড়কের হাটখোলার চর বটতলা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করতে গিয়ে পাশেই একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ যুবকের মধ্যে তিনজন পালিয়ে যায়। শাহাজাদা (২৩) ও তপু সাহা (২২) নামে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের চাচা জিল্লুর রহমান বলেন, দুপুরে শহিদ মোল্লা আমার ভাতিজাকে জামাই বাড়িতে নিয়ে যায়। রাত ৮টার পরে জানতে পারি সে খুন হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের বাবা গোলাম সরোয়ার বলেন, আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিচার চাই।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটে। পরে ডেকে এনে রবিউল ইসলামকে হত্যা করা হয়। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
