হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, মুক্তি চেয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সজিব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমের মুক্তির দাবিতে মানিকগঞ্জ সদর থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন দক্ষিণ বালিয়াবিল গ্রামের বাসিন্দারা।
সোমবার (১ জুন) সকাল ৭টা থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে কোনো সমাধান না পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে তারা থানা এলাকা ত্যাগ করেন। আব্দুল আলিম পুটাইল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, আলিম মেম্বার নির্দোষ। তাই তাকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, সজিব হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি কোনো থানা ঘেরাও কর্মসূচি ছিল না। স্থানীয়রা কিছুক্ষণ অবস্থান ও স্লোগান দেওয়ার পর চলে যান।
নিহত সজিবের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হত্যা মামলায় অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য আলিমকে সোমবার ভোরে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ বলেন, “আমাদের এলাকার সাবেক মেম্বার আলিম ভাইকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধইরা আনছে। সে পুটাইল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। যারা প্রকৃত সন্ত্রাসী তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আছে। ফজলু, উজ্জল, জসিম মেম্বার এই খুনের সঙ্গে জড়িত। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে আলিম মেম্বারকে ফাঁসাইছে।”
আশিক আহাম্মেদ বলেন, “গতকাল রাতে বিনা অপরাধে আলিম মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসছে পুলিশ। পুলিশ কেন যাচাই-বাছাই না করেই তাকে ধরে নিয়ে গেল। এর জন্য আজকে আমরা থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছি। আমরা আলিম মেম্বারের মুক্তি চাই।”
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির মুখপাত্র আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আব্দুল আলিমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, সজিব হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আলিম মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি কোনো থানা ঘেরাও কর্মসূচি ছিল না। স্থানীয়রা মুক্তির দাবিতে কিছু সময় অবস্থান ও স্লোগান দিয়ে চলে যান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে উত্তর পুটাইল এলাকায় লুৎফর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন সজিব। অভিযোগ রয়েছে, রাত দেড়টার দিকে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাড়িটিতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজিবকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
