×

ঢাকা

গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির টোপ গিলে দিশেহারা তামাক চাষিরা

Icon

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির টোপ গিলে দিশেহারা তামাক চাষিরা

শিবালয়ের মুশুরিয়া এলাকার গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির আঞ্চলিক অফিস। ছবি : ভোরের কাগজ

মিষ্টি কথা আর লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে অভিযোগ কৃষকদের। কিন্তু তামাক তোলার পর এখন সেই কোম্পানির কাছেই জিম্মি হয়ে পড়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার শতাধিক তামাক চাষি।

‘গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি’র সিন্ডিকেট ও নানা অজুহাতে তামাক কিনতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ঋণের বোঝা আর চরম অনিশ্চয়তায় স্থানীয় কৃষকদের দিন কাটছে বলে অভিযোগ তামাক চাষিদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা আগে প্রথাগত খাদ্যশস্য আবাদ করতেন। কিন্তু গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির প্রতিনিধিরা কৃষকদের মগজধোলাই করে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। বিনামূল্যে কীটনাশক, ভিটামিন, তামাকক্ষেত পরিচর্যার বিশেষ পোশাক এবং কৃষিঋণের টোপ দিয়ে কৃষকদের অন্য ফসল বাদ দিয়ে তামাক চাষে উৎসাহিত করেন। কিন্তু এখন এই কোম্পানি তামাক ক্রয় না করায় অধিকাংশ তামাক চাষি দিশেহারা।

উপজেলার তামাক চাষি পলাশ বিশ্বাস ও বাচ্চু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "তারা কোনোদিন তামাক চাষের বিষয়ে অবগত বা আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথার জাদুতে বিমোহিত হয়ে তামাক চাষ শুরু করেছিলেন। গত কয়েক বছর মুনাফা সন্তোষজনক দিলেও, এ বছর তারা তাদের চরম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছেন।"

তামাক নিয়ে কৃষকেরা এখন ওই কোম্পানির কাছে অনেকটাই জিম্মি।

শিবালয় উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মুশুরিয়া এলাকায় অবস্থিত গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির সেল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, অবিক্রীত তামাক নিয়ে কৃষকদের চরম দুর্ভোগের চিত্র। কৃষকরা সকাল থেকে তামাক বিক্রির উদ্দেশ্যে টোব্যাকো কোম্পানির অফিসের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। বেশিরভাগ কৃষককে বিকেল তিনটার পর বায়াররা (ক্রেতা) সাফ জানিয়ে দেন- "আজ আর তামাক নেওয়া হবে না।"

তামাক না কেনার পেছনে কোম্পানির লোকজন দাঁড় করান নানা অজুহাত। কখনো বলা হচ্ছে তামাকের বার্ষিক চাহিদা পূরণ হয়ে গেছে, আবার কখনো তামাকের মান ভালো না বা তামাক ভেজা- এমন সব ঠুনকো অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের তামাক। নিরুপায় হয়ে অনেক চাষি বউ-বাচ্চার মুখে অন্ন জোগাতে অর্ধেক দামে তামাক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের কাছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য মুশুরিয়া মধুমতি সিএনজি পাম্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির সেল সেন্টারে প্রবেশ করতে গেলে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির সিকিউরিটি গার্ড, কয়েকজন বায়ার এবং মহিদুর খান নামে একজন শ্রমিকদল নেতা ভোরের কাগজের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিকে ভেতরে প্রবেশ করতে না দিয়ে তাকে এই কোম্পানির মানিকগঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, "এটি কোম্পানির সাজানো সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ, যারা সমাজের বিত্তবান এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী, তাদের তামাক কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই উপযুক্ত দাম দিয়ে কিনে নিচ্ছে কোম্পানির প্রতিনিধিরা।"

তামাক চাষ কেবল কৃষকদের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই ডেকে আনেনি, চাষিদের শরীরে বাসা বাঁধছে নানা রোগব্যাধি। গত কয়েক বছর যাবৎ তামাক চাষ ও প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে অনেক কৃষক শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানাবিধ মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, তামাক এমন কোনো সাধারণ ফসল নয়, যা হাটে-বাজারে বিক্রি করা যাবে। একমাত্র কোম্পানি না কিনলে এই তামাকের কোনো মূল্য নেই। ফলে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির এই একচেটিয়া জিম্মিদশার কারণে চলতি মৌসুমে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে সাধারণ চাষিদের।

তামাক চাষিরা আরো জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে ঘিওর ও শিবালয়ের কৃষকেরা। এই প্রতারণা ও সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাঁচতে এবং উৎপাদিত তামাকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী তামাক চাষিরা।

ওয়েবসাইটে প্রদত্ত গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার জানান, তামাক চাষে কৃষকদের বরাবরই নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও কৃষকেরা এ বছর অধিক পরিমাণ জমিতে তামাক চাষ করছেন। এর কারণেই হয়তো কৃষকদের এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কৃষি অফিস কখনোই কৃষকদের তামাক চাষে উৎসাহিত করে না।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার দৈনিক ভোরের কাগজকে জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য ছিল না। অনতিবিলম্বে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App