×

অর্থনীতি

আরো ২ মাস চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হবে বাংলাদেশকে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

আরো ২ মাস চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হবে বাংলাদেশকে

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে আরো সময় লাগবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তত আরো দুই মাস উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হতে পারে, যা সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও জ্বালানি তেল কিনেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কয়েক হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, যুদ্ধবিরতি ইতিবাচক হলেও এটি স্থায়ী না হলে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হলেই প্রকৃত স্বস্তি আসবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এলএনজিবাহী কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে পারেনি, ফলে ঘাটতি মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয়েছে।

আরো পড়ুন : ‘প্রয়োজনে’ মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা সরকারের

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, এলএনজির দাম তাৎক্ষণিক বাজারদরে নির্ধারিত হয় না, বরং পূর্ববর্তী নির্দিষ্ট সময়ের গড় দামের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। ফলে মার্চ-এপ্রিলের উচ্চমূল্যের প্রভাব মে-জুন পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ আটকে যায়, আরব আমিরাত থেকেও একটি জাহাজ আসেনি। ফলে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি কিছুটা বেড়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, এপ্রিল মাসে ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি ডিজেলবাহী জাহাজ নিশ্চিত হয়েছে। সব জাহাজ সময়মতো না এলে সংকট আরো বাড়তে পারে।

এদিকে এলসি খোলা ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টির জটিলতায় সরাসরি জ্বালানি ক্রয় প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। মার্চ-এপ্রিলের জন্য প্রায় ২০ লাখ টন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হলেও অধিকাংশ সরবরাহকারী জামানত জমা না দেওয়ায় আমদানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব মাঠপর্যায়ে আরো স্পষ্ট। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, যানজট ও ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত মজুত ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও উঠেছে।

গ্রামাঞ্চলেও পরিস্থিতি কঠিন। সেচ মৌসুমে ডিজেলের অভাবে কৃষকরা বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় তেল নিয়ে সংঘর্ষ, অবরোধ ও কালোবাজারির ঘটনাও ঘটছে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন সব বিক্রেতাকে সরকারি দামে বিক্রির আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ১,৭২৮ টাকায় পৌঁছেছে।

তবে যুদ্ধবিরতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সরবরাহ ও দামে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে পারে।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শেরপুর-৩ আসনের ভোট বর্জন করলেন জামায়াত প্রার্থী

শেরপুর-৩ আসনের ভোট বর্জন করলেন জামায়াত প্রার্থী

নড়াইলে তিন মাসের শিশুকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যায় আটক মা

নড়াইলে তিন মাসের শিশুকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যায় আটক মা

বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও শিল্প-নির্দেশক তরুণ ঘোষ আর নেই

বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও শিল্প-নির্দেশক তরুণ ঘোষ আর নেই

চাটমোহরে বিএনপি নেতার ছেলের তাণ্ডবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ

চাটমোহরে বিএনপি নেতার ছেলের তাণ্ডবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App